জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধান অনুযায়ী জন্মসালসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের ক্ষমতা এখন কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালকের (ডিজি) হাতে, যার ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন থেকে কোনো নাগরিকের জন্মসাল সংশোধন করতে হলে এনআইডি উইংয়ের ডিজির অনুমোদন বাধ্যতামূলক। আগে ১০ বছর বা তার বেশি পার্থক্য থাকলে ডিজির অনুমোদন লাগত, আর কম হলে স্থানীয় পর্যায়েই সংশোধন করা যেত। তবে নতুন নিয়মে সব ধরনের জন্মতারিখ সংশোধন আবেদনই কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হবে।
আরও পড়ুন-ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়?(আপডেট)
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে জাতীয় পরিচয়পত্র ও সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত সংশোধন সংক্রান্ত প্রবিধানমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, ভুয়া তথ্য দিয়ে এনআইডি সংশোধনের প্রবণতা রোধ করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়মে এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি শর্তও যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য এখন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারো একাধিক সনদ থাকলে তা আগে সংশোধন করে পরে এনআইডির তথ্য আপডেট করতে হবে।
তবে শুধু কড়াকড়ি নয়, কিছু ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া সহজও করা হয়েছে। যেমন—পিতা-মাতার এনআইডি অনুযায়ী একই ঠিকানায় স্থানান্তর চাইলে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হবে। আবার কেউ ধর্মান্তরিত হলে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতার প্রত্যয়ন থাকলে দ্রুত সংশোধন করা যাবে।
এছাড়া একাধিক জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকলে একটি রেখে বাকিগুলো বাতিল করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের অনিয়ম কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে ইসি।
তবে নতুন এই কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এতে ভুয়া সংশোধন কমবে ঠিকই, কিন্তু প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, জন্মতারিখ সংশোধন নিয়ে মাঠ পর্যায়ে নানা ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব সমস্যা সমাধানের জন্যই কেন্দ্রীভূত এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী আবার কিছু ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
অন্যদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, নতুন নীতিমালায় ভালো উদ্যোগ থাকলেও অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ সাধারণ মানুষের জন্য জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এনআইডি সংশোধনে নতুন এই নিয়ম একদিকে যেমন স্বচ্ছতা ও জালিয়াতি প্রতিরোধে সহায়ক হবে, অন্যদিকে নাগরিক সেবায় সময় ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-এখন আর থানায় জিডি নয়! হারানো NID অনলাইনে পাবেন সহজেই
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










