জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন কড়াকড়ি আরোপের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, শিক্ষাসনদ ছাড়া আর কোনো বয়স সংশোধনের আবেদন অনুমোদন করা হবে না। একই সঙ্গে এনআইডি সংশোধনের কার্যক্রম কেন্দ্রীয়করণ করায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নাগরিকদের ঢাকায় এসে সেবা নিতে হচ্ছে। এতে বেড়েছে ভোগান্তি, বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা।
আরও পড়ুনঃ- এনআইডি সংশোধনে ৬৮ হাজার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত ইসির
ইসি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে—শিক্ষাসনদ ছাড়া এনআইডির তথ্য সংশোধনের আবেদন আপাতত অনুমোদন না করার। এ কারণে অনেক আবেদন স্থগিত রাখা হয়েছে।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, যেসব নথি আগে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত দেওয়া হয়েছে। নতুন করে যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণ নাগরিকদের তুলনায় প্রবাসী ও চাকরিজীবীদের বয়স সংশোধনের আবেদন বেশি জটিল হয়ে থাকে। কারণ অনেক প্রবাসী বিদেশি নথির সঙ্গে মিল রাখতে বয়স ৬ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কমানোর আবেদন করেন। আবার চাকরির সুবিধার জন্য বয়স গোপন করে পরে তা সংশোধনের আবেদন করার ঘটনাও রয়েছে।
ইসি সূত্র আরও জানিয়েছে, আপাতত শুধু যাদের শিক্ষাসনদ রয়েছে, তাদের বয়স সংশোধনের আবেদন অনুমোদন করা হবে। অন্য ক্যাটাগরির আবেদন আপাতত স্থগিত থাকবে। তবে যাদের বিদেশি পাসপোর্ট রয়েছে কিংবা যারা এমপিওভুক্ত চাকরিতে রয়েছেন, তাদের আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।
এদিকে বয়স সংশোধনের কার্যক্রম মাঠপর্যায় থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের পর প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ জন সেবাগ্রহীতা নির্বাচন ভবনে আসছেন। কিন্তু দূরদূরান্ত থেকে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকে।
সরেজমিনে নির্বাচন ভবনের এনআইডি অনুবিভাগে গিয়ে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। ইতালিপ্রবাসী হোসেন আলীর (ছদ্মনাম) ভাই শফিক আলী বলেন, কয়েক মাস ধরে এনআইডি সংশোধনের জন্য ঘুরছেন তারা। কিন্তু শিক্ষাসনদ না থাকায় আবেদন ঝুলে আছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাইয়ের বিদেশি পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র থাকলেও এখন বলা হচ্ছে, এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এগুলো হয়রানি ছাড়া কিছু না।”
জানা গেছে, হোসেন আলী বয়স প্রায় ছয় বছর সংশোধনের আবেদন করেছেন। প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছেন জন্মসনদ, ভাই-বোনের এনআইডি ও ইতালির রেসিডেন্স কার্ড।
অন্যদিকে পঞ্চগড় থেকে আসা রাকিব হাসান জানান, তার শিক্ষাসনদ ও এনআইডির বয়সের মধ্যে মাত্র ১০ দিনের পার্থক্য রয়েছে। সব কাগজ জমা দিলেও কবে সংশোধন হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে যাদের শিক্ষাসনদ রয়েছে শুধু তাদের আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। প্রবাসীদের আবেদনসহ অন্যান্য বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি জানান, বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। গত ৩০ দিনে প্রায় ৮৯ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং একই সময়ে নতুন আবেদন এসেছে প্রায় ৮০ হাজার।
এনআইডি সংশোধন নিয়ে ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বেশিরভাগ আবেদনেই তথ্যের বড় ধরনের পরিবর্তন চাওয়া হয়, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এসব পরিবর্তনের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
তিনি বলেন, “খোদেজা নাম ভুল করে খাদিজা হলে সেটি সংশোধন করা যেতে পারে। কিন্তু খাদিজা থেকে আইরিন করতে চাইলে সেটি কেন অনুমোদন করা হবে?”
ভোগান্তি কমাতে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সেবাগ্রহীতাকে সময় নির্ধারণ করে ডাকার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এতে নাগরিকদের ভিড় কমবে এবং ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
সূত্রঃ- নির্বাচন কমিশন সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য।
আরও পড়ুনঃ- এনআইডি সংশোধনে নতুন নিয়ম: জন্মতারিখ পরিবর্তনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ










