নেত্রকোনায় শিশুকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী সাগরকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলামের আদালতে আসামিকে হাজির করা হলে বিচারক এই আদেশ দেন।
আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর ভুক্তভোগী শিশুটিকে মসজিদ পরিষ্কার করার কথা বলে ডেকে নেন শিক্ষক সাগর। এরপর মসজিদের বারান্দার একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। লোকলজ্জা ও ভয়ে শিশুটি তখন বিষয়টি কাউকে জানায়নি। তবে ঘটনার প্রায় সাত মাস পর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তার মা। গত ১৮ এপ্রিল মদনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে জানা যায়, ওই শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
পরবর্তীতে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করলে তার মা গত ২৩ এপ্রিল বাদী হয়ে মদন থানায় ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে’ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গতকাল বুধবার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সোনামপুর এলাকা থেকে আমানুল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নূরুল কবীর রুবেল রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার গুরুত্ব ও অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন
Array