নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসের কারণ কী, এত পর্যটক কেন গিয়েছিলেন?
ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকা।
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪০৩ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক, যাদের বেশিরভাগই ভারতীয় বলে জানিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপাল পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ ভাটির দিকে চিতওয়ান জেলা এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ নওয়ালপরাসি ইস্ট এলাকায় পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিখোঁজদের তালিকায় ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। রাসুয়া অঞ্চলের ভোতেকোশি নদীর আশপাশে বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, পর্যটনকেন্দ্র চিতওয়ানসহ কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি বাড়তে থাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় আট টন ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
তিব্বতে নিখোঁজ ৫৫৮
নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিয়িরং কাউন্টিতেও কাদাধসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সেখানে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গিয়িরং সীমান্ত চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ।
নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক
দুর্যোগকবলিত এলাকায় ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক রয়েছেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ৫৩ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ছাড়া নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভ্রমণরত একদল ব্রিটিশ পর্যটকের স্বজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একটি ট্যুর কোম্পানির ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিক ও চারজন নেপালি গাইডের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ভূমিধস থেকেই দুর্যোগের শুরু
প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে আকস্মিক বন্যার কারণ মনে করা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী ভূকম্পন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিধস থেকেই এ দুর্যোগের সূত্রপাত।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও পলি নেমে এসে নদীর প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন সৃষ্টি করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কর্তৃপক্ষ হিমবাহের হ্রদ থেকে আকস্মিক পানি বের হয়ে আসা, নদীর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখছে।
পর্যটন মৌসুমে বড় বিপর্যয়
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই অঞ্চলটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র মানস সরোবর ও গোসাইকুণ্ড হ্রদের কারণে প্রতি বছর হাজারো পর্যটক এ এলাকায় ভ্রমণ করেন।
বিশেষ করে বছরের এই সময়ে ভারতীয় পর্যটকদের উপস্থিতি বেশি থাকে। পূর্ণিমার সময়কে পবিত্র মনে করে অনেকেই এই সময়ে মানস সরোবর ও গোসাইকুণ্ড ভ্রমণে আসেন।
বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
