মাদরাসার হুজুরের লালসার শিকার ১১ বছরের শিশু: ২৭ সপ্তাহের গর্ভবতী, মৃত্যুঝুঁকিতে ভুক্তভোগী শিশু
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুর বিরুদ্ধে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে শিশুটি প্রায় ২৭ সপ্তাহের গর্ভবতী এবং চিকিৎসকদের মতে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ঘটনাটি ঘটে গত বছরের নভেম্বর মাসে উপজেলার কাইটাল ভাগবৎপুর বড়বাড়ি এলাকার হযরত ফাতেমাতুযযাহরা (রা.) মহিলা কওমি মাদরাসায়।
ময়মনসিংহ নগর মাতৃসদনের গাইনোকোলজিস্ট ডা. সায়মা আক্তার এবং মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা ছোটবেলাতেই মারা যান। মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে কাজ করায় শিশুটি নানীর কাছে বড় হচ্ছিল। ধর্মীয় শিক্ষার উদ্দেশ্যে তাকে ওই মাদরাসায় ভর্তি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আমানুল্লাহ সাগর শিশুটিকে একা পেয়ে প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতন করেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে একই ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরীক্ষায় জানা যায়, সে ২৭ সপ্তাহের গর্ভবতী। পরে শিশুটি আতঙ্কিত অবস্থায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিষয়ে ইঙ্গিত দেয় বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তার ওজন ৩০ কেজির কম এবং হিমোগ্লোবিন মাত্র ৮.৫। বয়স ও শারীরিক গঠন বিবেচনায় স্বাভাবিক প্রসব অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, চিকিৎসা ব্যবস্থাও জটিল।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করছেন।
ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিঃ মদন থানায় ধর্ষণ ও গর্ভধারণ সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত আমানুল্লাহ সাগর পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
Array