১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড, জানুন ১০টি বড় সুবিধা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড, জানুন ১০টি বড় সুবিধা

১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড

দেশের কৃষি খাতে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত জটিলতা দূর করে কৃষকদের সরাসরি সরকারি সুবিধার আওতায় আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় শুধু কৃষকই নয়, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কৃষি ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, প্রণোদনা ও অন্যান্য সুবিধা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এতদিন মধ্যস্বত্বভোগী বা জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অনেক কৃষক এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নতুন এই কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন-পহেলা বৈশাখে সারা দেশে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একজন কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ন্যায্যমূল্যে সার ও কৃষি উপকরণ ক্রয়, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা গ্রহণ, স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, কৃষি বিমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য এবং রোগবালাই দমনে পরামর্শ।

এছাড়া জমির পরিমাণ অনুযায়ী সার কেনার সুযোগ দেওয়া হবে, যা অতিরিক্ত সার ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে কৃষকের বিভিন্ন ভাতা বা সহায়তার জন্য আলাদা আলাদা কার্ড থাকলেও নতুন কৃষক কার্ড চালু হলে এসব সুবিধা এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি কৃষকের জন্য একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা হবে। এতে জমির পরিমাণ, উৎপাদন, আর্থিক অবস্থা, ভর্তুকি গ্রহণসহ প্রায় ৪৫ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এতে করে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং আর্থিক সহায়তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কৃষকদের জন্য সোনালী ব্যাংকে পৃথক ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হবে, ফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথম ধাপে প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। জমির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষকদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হচ্ছে—৫ শতাংশের কম জমির মালিকদের ভূমিহীন, ৫ থেকে ৪৯ শতাংশ জমির মালিকদের প্রান্তিক এবং ৫০ থেকে ২৪৯ শতাংশ জমির মালিকদের ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঝারি ও সচ্ছল কৃষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।

এখনো এই প্রকল্পের কিছু দিক চূড়ান্ত না হলেও ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের ১০টি উপজেলার ১০টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহ চলছে, যা এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আরও ১৫টি উপজেলায় এই কার্ড ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে সঠিক তথ্য সংগ্রহ, প্রকৃত কৃষক শনাক্তকরণ এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবুও সরকার আশা করছে, ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের কৃষি খাতে একটি বড় পরিবর্তন আসবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষক কার্ড কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন-চালু হচ্ছে কৃষি কার্ড, কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন