জমা টাকা না ভেঙেই আইএফআইসি ব্যাংক থেকে লোন, জানুন কত পাবেন
আমানতের বিপরীতে আইএফআইসি ব্যাংকের Easy Loan সুবিধা।
নিজের জমা টাকা ভাঙতে না চেয়েও জরুরি প্রয়োজনে অর্থের ব্যবস্থা করতে চান—এমন গ্রাহকদের জন্য আইএফআইসি ব্যাংকের রয়েছে জমার বিপরীতে ঋণ সুবিধা। ব্যাংকের IFIC Easy Loan-এর মাধ্যমে বিদ্যমান আর্থিক নিরাপত্তার বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এই সুবিধায় FDR, NFCD, WEDB, PSS, IFIC Aamar Bhobishawt এবং Monthly Income Scheme (MIS)-এর জমার বিপরীতে ঋণ নেওয়া যায়। ফলে আমানত ভেঙে না দিয়েই প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পান গ্রাহক।
আইএফআইসি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, Easy Loan মূলত ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য তৈরি একটি secured loan facility। জরুরি খরচ, শিক্ষা, জীবনযাত্রার প্রয়োজন কিংবা স্বল্পমেয়াদি নগদ অর্থের চাহিদা পূরণে এই ঋণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এর অন্যতম সুবিধা হলো, গ্রাহকের বিদ্যমান আমানত নিরাপদ রেখে তার বিপরীতে অর্থের সুবিধা নেওয়া যায়। ব্যাংক এটিকে তুলনামূলক সহজ প্রক্রিয়ার ঋণ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হলে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুবিধার কথাও জানিয়েছে।
জমার পরিমাণের কত অংশ পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে, সেটিও আমানতের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত। আইএফআইসি ব্যাংকের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, FDR, NFCD, WEDB, PSS এবং Aamar Bhobishawt-এর জমার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে Monthly Income Scheme বা MIS-এর ক্ষেত্রে জমার সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, ঋণের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের আমানতের ধরন ও জমাকৃত অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের আমানত ভেঙে ফেলার প্রয়োজন হয় না। সাধারণভাবে কোনো আমানত নির্দিষ্ট মেয়াদে রাখা থাকলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সেটি ভাঙলে প্রত্যাশিত মুনাফা বা সুদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। জমার বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সুবিধার ফলে গ্রাহক প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আমানত চালু রাখার সুযোগ পান। তবে ঋণ গ্রহণের আগে সুদের হার, চার্জ, পরিশোধের শর্ত এবং আমানতের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে ব্যাংকের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নেওয়া জরুরি।
IFIC Easy Loan-এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছর মেয়াদি ওভারড্রাফট সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ব্যাংক। অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট পণ্যের মেয়াদ দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিভিত্তিক ঋণের মতো নয়; এটি মূলত স্বল্পমেয়াদি অর্থের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহারযোগ্য একটি সুবিধা। ঋণের ওপর প্রযোজ্য সুদের হার আমানতের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে। ব্যাংক তাদের পণ্যের বৈশিষ্ট্যে প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার এবং স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণের কথা উল্লেখ করেছে।
ঋণের জন্য আবেদন করতে গ্রাহকের কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। আইএফআইসি ব্যাংকের Easy Loan-এর তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ঋণগ্রহীতা ও জামিনদারের দুই কপি করে পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং TIN সনদের কপি প্রয়োজন হতে পারে। তবে আবেদনকারীর ধরন, ঋণের কাঠামো এবং ব্যাংকের যাচাই-বাছাই অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্রও প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সর্বশেষ প্রয়োজনীয় নথির তালিকা জেনে নেওয়া ভালো।
এ ছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকের Flexi Loan-এর অধীনেও আর্থিক নিরাপত্তার বিপরীতে ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যাংকের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এই সুবিধায় IFIC Bank PLC থেকে ইস্যু করা FDR, MIS বা DRDS-এর বিপরীতে Financial Security Based Flexi Loan নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই পণ্যের সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং মেয়াদ সর্বোচ্চ আট বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে এটি Easy Loan-এর থেকে আলাদা পণ্য এবং এর যোগ্যতা, কাগজপত্র ও শর্তও আলাদা।
আইএফআইসি ব্যাংকের FDR পণ্যের তথ্যেও জমাকৃত অর্থের বিপরীতে ঋণ সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে। ব্যাংকের FDR বিভিন্ন মেয়াদে খোলার সুযোগ রয়েছে এবং FDR-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে deposited funds-এর বিপরীতে loan facility উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে IFIC Double Return Deposit Scheme বা DRDS-এর ক্ষেত্রেও জমার বিপরীতে secured overdraft সুবিধা রয়েছে; ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, DRDS-এর জমার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
তবে জমার বিপরীতে ঋণ মানেই বিনা শর্তে বা বিনা খরচে টাকা পাওয়া নয়। ঋণ গ্রহণ করলে নির্ধারিত সুদ ও প্রযোজ্য অন্যান্য চার্জ পরিশোধ করতে হবে। ঋণের অর্থ সময়মতো পরিশোধ না করলে ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আমানত বা নিরাপত্তার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই শুধু কত টাকা ঋণ পাওয়া যাবে তা নয়, মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সুদের হার কত, মেয়াদ কত এবং কোনো অতিরিক্ত চার্জ আছে কি না—এসব বিষয় বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, আইএফআইসি ব্যাংকের জমার বিপরীতে ঋণ সুবিধা এমন গ্রাহকদের জন্য কার্যকর হতে পারে, যাদের হাতে আমানত রয়েছে কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সেই অর্থ ভাঙতে চান না। বিশেষ করে FDR, PSS, Aamar Bhobishawt, MISসহ নির্দিষ্ট আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণের সুযোগ থাকায় জরুরি অর্থের প্রয়োজন মেটানোর একটি বিকল্প তৈরি হয়। তবে ঋণের অনুমোদন ব্যাংকের যাচাই-বাছাই, প্রযোজ্য নিয়ম ও গ্রাহকের যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। সর্বশেষ সুদের হার, চার্জ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনপ্রক্রিয়া জানতে আইএফআইসি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা বা অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করে আবেদন করাই নিরাপদ। আইএফআইসি ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
