মসজিদে নববীর সবুজ গম্বুজের ইতিহাস, যেভাবে পেল বর্তমান রূপ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ
মসজিদে নববীর সবুজ গম্বুজের ইতিহাস, যেভাবে পেল বর্তমান রূপ

?????????????????????????????????????????????????????????

মদিনায় মসজিদে নববীর সবুজ গম্বুজ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্থাপত্যচিহ্ন। প্রতিবছর লাখো মুসল্লি ও দর্শনার্থী এই গম্বুজের দিকে তাকিয়ে নবী করিম (সা.)–এর স্মৃতির সঙ্গে এক গভীর আবেগ অনুভব করেন। তবে অনেকেরই জানা নেই, এই গম্বুজ শুরু থেকেই সবুজ ছিল না। দীর্ঘ কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস, সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে এটি বর্তমান রূপ পেয়েছে।

৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর ইন্তেকালের পর তাঁকে তাঁর স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.)–এর কক্ষে দাফন করা হয়। সেই সময় রওজা মুবারকের ওপর কোনো গম্বুজ বা বিশেষ স্থাপত্য নির্মাণ করা হয়নি। ইসলামের প্রথম যুগে স্থানটি ছিল অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর।

আরও পড়ুন- ধর্ষণ প্রমাণে কি চার সাক্ষী বাধ্যতামূলক, কী বলে ইসলাম?

পরবর্তীতে উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিকের শাসনামলে মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ করা হয়। সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগে এই সম্প্রসারণের সময় নবীজির কক্ষটি মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তখনো কোনো গম্বুজ নির্মাণ করা হয়নি।

রওজা মুবারকের ওপর প্রথম গম্বুজ নির্মিত হয় মামলুক আমলে। ১২৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মামলুক সুলতান আল-মানসুর কালাওনের নির্দেশে কাঠের একটি গম্বুজ নির্মাণ করা হয়। গম্বুজটির বাইরের অংশ সীসা দিয়ে আবৃত ছিল, যাতে তা আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকে।

পরবর্তী সময়ে একাধিকবার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়। বিশেষ করে ১৪৮১ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গম্বুজের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। এরপর মামলুক সুলতান আল-আশরাফ কায়তবায় এটি পুনর্নির্মাণ করেন। তখন গম্বুজটি আরও শক্তিশালী ও স্থায়ী কাঠামো পায়।

অটোমান আমলে মসজিদে নববীর ব্যাপক সংস্কার করা হয়। তবে গম্বুজের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে ১৮১৭ সালে। অটোমান সুলতান মাহমুদ দ্বিতীয়ের নির্দেশে গম্বুজটি পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। এই সময়ই প্রথমবারের মতো গম্বুজটি সবুজ রঙে রঞ্জিত করা হয়।

এর আগে গম্বুজটি বিভিন্ন সময়ে সাদা, ধূসর কিংবা সীসার স্বাভাবিক রঙে ছিল। সবুজ রং করার পর এটি ‘কুব্বাতুল খাদরা’ বা ‘গ্রিন ডোম’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এরপর থেকে সবুজ গম্বুজ মসজিদে নববীর অন্যতম প্রধান পরিচয়ে পরিণত হয়।

আজকের সবুজ গম্বুজ শুধু একটি স্থাপত্য নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক। যদিও এটি কোনো উপাসনার বস্তু নয়, তবুও নবীপ্রেমের স্মারক হিসেবে মুসলমানদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে টিকে থাকা এই গম্বুজ আজও ইসলামের ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মদিনার আকাশে উঁচু হয়ে থাকা সবুজ গম্বুজ তাই শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর

আরও পড়ুন- বৃষ্টির সময় যে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন