ঘুষ নিয়ে দর কষাকষির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহারের পর ওসি বদলি

Netrobangla24 Desk
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
ঘুষ নিয়ে দর কষাকষির অভিযোগে  এসআই প্রত্যাহারের পর ওসি বদলি

,

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাই ভারতীয় প্রসাধনী পণ্য ছাড়িয়ে দিতে ঘুষের দর কষাকষির অভিযোগে এক এসআইকে প্রত্যাহারের পর এবার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, কলমাকান্দা থানা থেকে ওসি মো. সিদ্দিক হোসেনকে কেন্দুয়ার পেমই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলমাকান্দা থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে পরিদর্শক আবুল হাশেমকে পদায়ন করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ওসির বদলিটি মূলত রুটিনমাফিক প্রক্রিয়ার অংশ। মাস শেষে নিয়মিত কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মদক্ষতা বিবেচনা করে বদলি ও পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে বুধবার একই ঘটনায় কলমাকান্দা থানার এসআই আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি অভিযোগের তদন্তে জেলা পুলিশ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করা হয়। এ সময় পিকআপচালক নাসিম ও তার সহকারী মনির হোসেনকে আটক করা হয়। পরে জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

এরপর বুধবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এসআই আবু হানিফা ও কথিত চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মধ্যে টাকার বিনিময়ে মালামাল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হয়। অডিও প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ভাইরাল অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আমাকে মামলায় দেবেন না, শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন।”

জবাবে অপর ব্যক্তি বলেন, “না ভাই, এর কম হবে না, তিন লাখ টাকা দেন।”

পরে দর কষাকষির একপর্যায়ে আড়াই লাখ ও দুই লাখ টাকার কথাও শোনা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে আরও বলা হয়, “এক লাখ টাকা দিব। ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবে না। ওসি স্যার বলছেন, যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা করেছেন, দারোগার সঙ্গে কথা বলেন।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই আবু হানিফাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্যদিকে জসিম উদ্দিনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে বদলি হওয়া ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, “চোরাকারবারির সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, “অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন