৫ মাসে যে পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করল সরকার

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
৫ মাসে যে পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করল সরকার

পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ২৫ হাজার কোটি টাকা

দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেছে সরকার। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণের দায় পরিশোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট পাঁচ মাসের হিসাবে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গত বছরের একই সময়ে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।

ইআরডির তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ-জুলাই সময়ে পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪১ কোটি ডলার করে বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে।

এই সময়ে ঋণের আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার। আর সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার।

বিদেশি ঋণের দায় পরিশোধের চাপ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩৭ কোটি ডলারে।

এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে হয় ৪০৯ কোটি ডলার। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।

ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, আগের কয়েক বছরে নেওয়া বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অবকাশকাল শেষ হওয়ায় এখন আসল ও সুদ একসঙ্গে পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে নেওয়া বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় সরকারের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তবে নিয়মিতভাবে এসব দায় পরিশোধ করা হচ্ছে।

সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আগের সরকারের নেওয়া অনেক ঋণের নীতিগত ও অর্থনৈতিক যুক্তি যথাযথ ছিল না।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পাওয়ার পরও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে দেশের আর্থিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বড় অঙ্কের দায় পরিশোধ করছে।

উপদেষ্টা আরও জানান, এখন থেকে দেশি বা বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার সতর্ক কৌশল অনুসরণ করবে। প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক রিটার্ন নিশ্চিত না হলে নতুন ঋণের দায় নেওয়া হবে না।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page