১০ মার্চ থেকে ১৩টি উপজেলায় শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
১০ মার্চ থেকে ১৩টি উপজেলায় শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

১০ মার্চ শুরু ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ১৩টি উপজেলা দিয়ে উদ্বোধন

দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে আগামী ১০ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু করা হবে। সেদিন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, প্রথমে দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে ১৩টি উপজেলায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন-নতুন ফ্যামিলি কার্ড আবেদন করার নিয়ম(অনলাইন ও অফলাইন)

কোন কোন উপজেলায় শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে—

  • বনানীর কড়াইল বস্তি

  • পাংশা

  • পতেঙ্গা

  • বাঞ্ছারামপুর

  • লামা

  • খালিশপুর

  • চরফ্যাশন

  • দিরাই

  • ভৈরব

  • বগুড়া সদর

  • লালপুর

  • ঠাকুরগাঁও

  • নবাগঞ্জ

এই ১৩টি উপজেলার নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে কার্যক্রম চালু হবে।

কীভাবে উপকারভোগী নির্বাচন হবে

উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ভিত্তিক কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের মাধ্যমে। তবে শুধুমাত্র এনআইডি তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নির্বাচিত ওয়ার্ডে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে সুবিধাভোগী চূড়ান্ত করা হবে।

পরিবারগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে—

  • হতদরিদ্র

  • দরিদ্র

  • মধ্যবিত্ত

  • উচ্চবিত্ত

প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রতি কার্ডে কতজন সদস্য থাকবে

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে—

  • প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডে সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

  • বড় পরিবারের ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে।

  • একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না।

  • তবে পরিবারের অন্য সদস্য ভাতা পেতে পারবেন।

এর মাধ্যমে সুবিধা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে

এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলো নিয়মিত নগদ অর্থ সহায়তা পাবে। বিশেষভাবে পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের মতে, এটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ও যাচাই প্রক্রিয়া

ফ্যামিলি কার্ড পেতে আগে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। এনআইডি ভিত্তিক কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে পরিবারের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।

এতে—

  • ভুয়া তালিকা কমবে।

  • মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ সীমিত হবে।

  • স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের জন্য একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে।

কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে—

  • সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।

  • দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করা সহজ হবে।

  • সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী হবে।

প্রথম ধাপে ১৩টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

উপসংহার

আগামী ১০ মার্চ থেকে ১৩টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প চালু করে পরে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। এনআইডিভিত্তিক ডেটাবেস ও সরেজমিন যাচাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন-ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন