নগর পরিবহন ও পর্যটন খাতে প্রযুক্তির নতুন সংযোজন হিসেবে বাংলাদেশে আসছে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক সাইটসিয়িং বাস। দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান AKIJ Motors এই নতুন ধরনের বৈদ্যুতিক বাস বাজারে এনেছে, যা শহরের স্বল্প দূরত্বে আরামদায়ক ও কম খরচে চলাচলের একটি আধুনিক সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন-৫ লাখ টাকার ইলেকট্রিক গাড়ি ঢাকায় এক্সপোতে সাড়া ছোট গাড়িতে বড় চমক
বিশেষ করে পর্যটন এলাকা, পার্ক, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কিংবা আবাসিক এলাকায় এই ধরনের বাস ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি শুধু পরিবহন নয়, বরং একটি স্মার্ট ও পরিবেশবান্ধব চলাচল ব্যবস্থার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এই সাইটসিয়িং বাসটি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক প্রযুক্তিতে পরিচালিত, যা জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে এটি ব্যবহারে কার্বন নিঃসরণ কম হবে এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যেখানে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব, সেখানে এই উদ্যোগ বাংলাদেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে বাসটি বেশ আধুনিক। এতে রয়েছে প্রায় ৭৫০০ কিলোওয়াট মোটর পাওয়ার, ৭২ ভোল্ট ২০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি এবং VRLA বা লিথিয়াম ব্যাটারি অপশন। একবার চার্জে এটি প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম, যা শহরের ভেতরে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট।
এছাড়া বাসটির গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার, যা নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত শহুরে চলাচলের জন্য উপযোগী। এতে একসঙ্গে ১৪ জন যাত্রী বসতে পারবেন এবং মোট বহন ক্ষমতা প্রায় ১১২০ কেজি পর্যন্ত। ফলে এটি ছোট আকারের হলেও কার্যকর পরিবহন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ছোট ইলেকট্রিক বাস শহরের যানজট কমাতে সহায়ক হতে পারে। কারণ এটি নির্দিষ্ট রুটে বা নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচল করে বড় যানবাহনের চাপ কমাতে পারে। পাশাপাশি পর্যটন এলাকাগুলোতে এটি ব্যবহার করলে দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে।
এছাড়া এই বাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি পরিচালনা খরচ তুলনামূলক কম। জ্বালানি খরচ না থাকায় দীর্ঘমেয়াদে এটি সাশ্রয়ী পরিবহন হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণও তুলনামূলক সহজ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এই ধরনের প্রযুক্তি চালু করতে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন—চার্জিং অবকাঠামো তৈরি, ব্যাটারি রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যাপ্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা। যদি এসব বিষয় সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন শহরে এই ধরনের যানবাহনের ব্যবহার বাড়তে পারে।
বর্তমানে বাসটির মূল্য জানতে সরাসরি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে, যা বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইলেকট্রিক সাইটসিয়িং বাস বাংলাদেশের পরিবহন ও পর্যটন খাতে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এটি শহুরে পরিবহন ব্যবস্থায় একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
আরও পড়ুন-টয়োটার বৈদ্যুতিক পিকআপ হাইলাক্স বাজারে এলো নতুন যুগের ইভি ট্রাক
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










