আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

রাস্তা দিয়েই চার্জ হবে গাড়ি বিশ্বজুড়ে শুরু নতুন প্রযুক্তির বিপ্লব

রাস্তা দিয়েই চার্জ হবে গাড়ি বিশ্বজুড়ে শুরু নতুন প্রযুক্তির বিপ্লব

বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু একটি বড় সমস্যা এখনও চালকদের চিন্তায় ফেলে—চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়। দীর্ঘ যাত্রায় চার্জিং স্টেশনের ওপর নির্ভরতা এবং অপেক্ষার সময় অনেকের কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। তবে প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবন সেই সমস্যার সমাধান দিতে শুরু করেছে। এখন এমন প্রযুক্তি বাস্তবে এসেছে, যেখানে গাড়ি চলতে চলতেই রাস্তা থেকেই চার্জ নিচ্ছে—যা কয়েক বছর আগেও ছিল কল্পনার বিষয়।

আরও পড়ুন-৫ লাখ টাকার ইলেকট্রিক গাড়ি ঢাকায় এক্সপোতে সাড়া ছোট গাড়িতে বড় চমক

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি পরীক্ষামূলক ও আংশিকভাবে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফ্রান্সের প্যারিস, যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটসহ বেশ কিছু শহরের ব্যস্ত সড়কগুলো ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে ‘স্মার্ট এনার্জি করিডোরে’। এই ধারণাকে অনেক বিশেষজ্ঞ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিপ্লবের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে দেখছেন।

এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি হলো ইন্ডাকটিভ চার্জিং। সহজভাবে বলতে গেলে, রাস্তার নিচে বিশেষ কপার কয়েল বসানো থাকে, যা বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত। গাড়ি যখন সেই রাস্তা দিয়ে চলে, তখন ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স পদ্ধতিতে কোনো তার ছাড়াই বিদ্যুৎ সরাসরি গাড়ির ব্যাটারিতে পৌঁছে যায়। ফলে আলাদা করে চার্জিং স্টেশনে থামার প্রয়োজন হয় না।

এই পদ্ধতিটি নিরাপদ বলেও দাবি করছেন গবেষকরা। কারণ, বিদ্যুৎ সরাসরি মানুষের শরীর বা প্রাণীর ওপর প্রভাব ফেলে না। এটি কেবল নির্দিষ্ট ডিভাইস বা গাড়ির ব্যাটারিতে শক্তি সরবরাহ করে। ফলে সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের জন্য এটি ঝুঁকিমুক্ত।

বৈশ্বিকভাবে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিভিন্ন দেশ এগিয়ে এসেছে। সুইডেন ইতোমধ্যে তাদের ই২০ মোটরওয়েকে স্থায়ী চার্জিং সড়কে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে, যার লক্ষ্য ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন। দীর্ঘমেয়াদে তারা প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার সড়ক বিদ্যুতায়িত করতে চায়। ফ্রান্সে প্যারিসের এ১০ হাইওয়েতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চার্জিং প্রকল্প চলছে, আর জার্মানিতে বাণিজ্যিক বাস রুটে এই প্রযুক্তি পরীক্ষাধীন রয়েছে।

উত্তর আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরে প্রথমবারের মতো পাবলিক ওয়্যারলেস চার্জিং সড়ক চালু হয়েছে। এছাড়া ইন্ডিয়ানা ও পেনসিলভেনিয়াতেও পাইলট প্রকল্প চলছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল তাদের পাবলিক বাস সার্ভিসে এই প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, এশিয়ায় চীন সোলার প্যানেল সংযুক্ত চার্জিং সড়ক নিয়ে কাজ করছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া তাদের ‘অনলাইন ইলেকট্রিক ভেহিকেল’ প্রযুক্তি আরও উন্নত করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে গাড়ির ব্যাটারির আকার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে গাড়ির ওজন কমবে, জ্বালানি দক্ষতা বাড়বে এবং উৎপাদন খরচ কমে যাবে। ফলে বৈদ্যুতিক গাড়ির দামও সাধারণ পেট্রোলচালিত গাড়ির কাছাকাছি বা কম হতে পারে।

পণ্যবাহী ট্রাক ও গণপরিবহনের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা আরও বেশি। দীর্ঘ সময় চার্জিং স্টেশনে অপেক্ষা না করে চলন্ত অবস্থায় চার্জ নেওয়া গেলে পরিবহন খরচ কমবে এবং লজিস্টিক খাতে বড় পরিবর্তন আসবে। ভবিষ্যতের স্মার্ট শহরে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বাস বা ট্যাক্সি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ হতে পারবে—এমন ধারণাও এখন বাস্তবের কাছাকাছি।

তবে এই প্রযুক্তির বাস্তবায়নে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, এই ধরনের সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রতি কিলোমিটার রাস্তা বিদ্যুতায়িত করতে গড়ে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। দ্বিতীয়ত, এখনো কোনো বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণ হয়নি, ফলে বিভিন্ন কোম্পানির প্রযুক্তির মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে।

এছাড়া একসঙ্গে অনেক গাড়ি চার্জ নিলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ বাড়তে পারে। রাস্তার নিচে থাকা কপার কয়েলগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদে এর স্থায়িত্ব নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও চ্যালেঞ্জিং। দেশে ইতোমধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন চালু হলেও তা এখনও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় সাধারণ মানুষ এখনো বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারে পুরোপুরি আগ্রহী হয়ে ওঠেননি। ফলে উন্নত বিশ্বের মতো চলন্ত রাস্তায় চার্জিং প্রযুক্তি চালুর আগে দেশের প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, চলন্ত অবস্থায় গাড়ি চার্জ নেওয়ার প্রযুক্তি ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ব্যয় কমানো এবং বৈশ্বিক সমন্বয়ের ওপর।

সূত্র: আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণা, পরিবহন খাত বিশ্লেষণ ও বৈদ্যুতিক গাড়ি উন্নয়ন প্রতিবেদন।

আরও পড়ুন-টয়োটার বৈদ্যুতিক পিকআপ হাইলাক্স বাজারে এলো নতুন যুগের ইভি ট্রাক

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now