রাজধানীতে নারী যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম–এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আরও দেখুন–গণপরিবহনে স্বস্তির নতুন অধ্যায়: রাজধানীতে চালু হচ্ছে ৪০০ ইলেকট্রিক বাস
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৈঠকে রাজধানীর বর্তমান সড়ক পরিবহন পরিস্থিতি, যানজট, গণপরিবহনের সেবার মান এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় বিশেষ করে কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী এবং প্রতিদিন গণপরিবহন ব্যবহারকারী নারী যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমানে রাজধানীতে প্রতিদিন লাখো নারী কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রয়োজনে বাসে চলাচল করেন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে অনেক সময় নারী যাত্রীরা হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। বিভিন্ন সময় গণপরিবহনে শারীরিক ও মানসিক হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারীদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালু হলে তাদের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। একই সঙ্গে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করাও সহজ হবে। বিশেষ করে অফিস সময় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক ব্যস্ত রুটগুলোতে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আলাদা বাস সার্ভিস চালুর বিষয়ে একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এর মধ্যে সম্ভাব্য রুট, ভাড়া কাঠামো, বাসের সংখ্যা এবং পরিচালন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর কয়েকটি ব্যস্ত রুটে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে নারী যাত্রীদের গণপরিবহনের প্রতি আস্থা বাড়বে। পাশাপাশি কর্মজীবী নারীদের চলাচল আরও সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আলাদা বাস চালু করলেই হবে না, সেবাটি কার্যকর রাখতে নিয়মিত মনিটরিং, নির্ধারিত রুট মেনে চলা এবং যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে বাসে সিসিটিভি, নারী সহকারী এবং অভিযোগ ব্যবস্থাও চালু করা যেতে পারে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার নারী যাত্রীরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেকেই মনে করছেন, গণপরিবহনে প্রতিদিনের ভোগান্তি ও হয়রানি কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
একজন কর্মজীবী নারী বলেন, “অফিস টাইমে বাসে ওঠাই অনেক কঠিন হয়ে যায়। আলাদা বাস সার্ভিস চালু হলে নারীদের জন্য অনেক সুবিধা হবে।”
এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, “গণপরিবহনে প্রায়ই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে নারী শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।”
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীতে নারীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ রাজধানীর পরিবহন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই এ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করা হতে পারে।
আরও পড়ুন-বন্ধ হচ্ছে অবৈধ মোবাইল সেট ! আপনারটা বৈধ কিনা চেক করুন





