আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

রাজধানীর সব বাসায় সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ সরকারের

রাজধানীর সব বাসায় সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ সরকারের বিদ্যুতের চাপ কমাতে আসছে নতুন নীতিমালা

রাজধানী ঢাকার বিদ্যুতের বাড়তি চাপ কমাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। আবাসিক ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার বাসাবাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক ভবনে সোলার ব্যবস্থা চালুর জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং পরিস্থিতিও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

আরও পড়ুন-জ্বালানি ছাড়াই প্রতিদিন ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, তিস্তা সোলার প্রকল্পে চমক

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নির্মাণ সরঞ্জাম বিষয়ক বিআইআইডি এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎকে সহজলভ্য করতে আগামী জুন মাসের মধ্যেই নতুন সরকারি আদেশ ও নীতিমালা জারি করা হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যাকআপ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে নানা আলোচনা হলেও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। তবে বর্তমান সরকার এখন বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সোলার ও উইন্ড এনার্জিকে জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে যখন তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তখন এসি, ফ্রিজ, পানির মোটর ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির অতিরিক্ত ব্যবহারে জাতীয় গ্রিডের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়। এ অবস্থায় ছাদভিত্তিক সোলার প্যানেল ব্যবস্থা চালু করা গেলে দিনের বেলায় আবাসিক ভবনের একটি বড় অংশের বিদ্যুৎ চাহিদা স্থানীয়ভাবেই পূরণ করা সম্ভব হবে। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

বর্তমানে রাজধানীর অধিকাংশ বহুতল ভবনের ছাদ দিনের বেশিরভাগ সময় খালি পড়ে থাকে। সরকার চাইছে এই অব্যবহৃত জায়গাগুলোকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন নীতিমালায় ভবিষ্যতে নতুন নির্মিত ভবনে বাধ্যতামূলকভাবে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পাশাপাশি পুরোনো ভবনগুলোতেও ধাপে ধাপে সোলার ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, “নেট মিটারিং” সুবিধাকে আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় কোনো বাসাবাড়ি বা ভবনে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যায়। পরবর্তীতে সেই বিদ্যুতের সমপরিমাণ সুবিধা গ্রাহক বিল সমন্বয়ের মাধ্যমে পেয়ে থাকেন। ফলে অনেক পরিবার বিদ্যুৎ বিল কমানোর সুযোগও পেতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। উন্নত দেশগুলোতে ছাদভিত্তিক সোলার ব্যবস্থা এখন খুবই জনপ্রিয়। পরিবেশ দূষণ কমানো, বিদ্যুতের খরচ হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে একই পথে এগোনোর চেষ্টা চলছে।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রাথমিক খরচ তুলনামূলক বেশি। অনেক পুরোনো ভবনের ছাদ ও কাঠামোও সোলার স্থাপনের উপযোগী নয়। এছাড়া প্রযুক্তিগত সহায়তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষ জনবল সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে যদি সহজ ঋণ, কিস্তি সুবিধা, কর ছাড় বা ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি আগ্রহী হবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীতে ছাদভিত্তিক সোলার ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণ সম্ভব হতে পারে।

এদিকে বিদ্যুতের মূল্য প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। সরকার সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে বিদ্যুৎ খাতকে আরও আধুনিক ও স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে, রাজধানীর বাসাবাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে শুধু লোডশেডিং ও বিদ্যুতের চাপই কমবে না, বরং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিআইআইডি এক্সপো অনুষ্ঠানের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-বাংলাদেশে হুয়াওয়ের লুনা ২০০০ সোলার এনার্জি স্টোরেজ শিল্প খাতে নতুন সমাধান

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now