বিকাশে যুক্ত হলো ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস, জানুন খোলার সহজ নিয়ম
বিকাশ অ্যাপ থেকেই ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস খোলার সুবিধা।
ডিজিটালভাবে সঞ্চয়ের সুযোগ আরও বাড়াতে বিকাশের ডিপিএস সেবায় যুক্ত হয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL)। ফলে এখন বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করেই ইস্টার্ন ব্যাংকের নির্ধারিত ডিপিএস স্কিমে টাকা জমাতে পারবেন গ্রাহকরা। ব্যাংকে গিয়ে কাগজপত্রের ঝামেলা ছাড়াই মোবাইল থেকেই সঞ্চয় শুরু করার এই সুবিধা ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। বিকাশের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ইবিএল ডিপিএসের মাসিক কিস্তির টাকা নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে।
ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএসের ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের মেয়াদ ও মাসিক জমার পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন অপশন রয়েছে। অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ৬ মাস মেয়াদে প্রতি মাসে ২ হাজার, ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ২০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ১২ মাস মেয়াদে মাসিক জমার পরিমাণ হতে পারে ১ হাজার, ২ হাজার ৫০০, ৫ হাজার বা ১০ হাজার টাকা। আর ২৪, ৩৬ ও ৪৮ মাসের মেয়াদে প্রতি মাসে ৫০০, ১ হাজার, ২ হাজার বা ৩ হাজার টাকা করে জমা দেওয়ার অপশন রয়েছে।
এই ডিপিএসের অন্যতম সুবিধা হলো, কিস্তি জমা দেওয়ার জন্য প্রতি মাসে ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত তারিখে বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকলে কিস্তির টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে। তাই ডিপিএস চালু করার পর নির্ধারিত তারিখের আগে বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় টাকা রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ইবিএল ডিপিএসের মেয়াদ পূর্ণ হলে মূল টাকার সঙ্গে প্রযোজ্য মুনাফা গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে জমা হবে। বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, মেয়াদ শেষে জমা হওয়া অর্থ ক্যাশ আউট করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ক্যাশ আউট খরচ মওকুফ করার সুবিধা রয়েছে। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য আয়কর অগ্রিম কর (AIT) ও আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে।
বিকাশ অ্যাপ থেকে ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস খুলতে প্রথমে অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘সেভিংস’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ‘নতুন সেভিংস খুলুন’ নির্বাচন করে সঞ্চয়ের ধরন হিসেবে ‘ডিপিএস’ বেছে নিতে হবে। তারপর ডিপিএসের উদ্দেশ্য, মেয়াদ এবং মাসিক জমার পরিমাণ নির্বাচন করে তালিকায় থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক থেকে ইস্টার্ন ব্যাংকের পছন্দের স্কিম নির্বাচন করতে হবে।
এরপর নমিনি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। ডিপিএসের মেয়াদ, মাসিক কিস্তি এবং মোট জমার তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। এরপর ডিপিএসের নিয়ম ও শর্তগুলো পড়ে সম্মতি দিতে হবে। সব তথ্য ঠিক থাকলে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন দিয়ে অনুমোদন করতে হবে এবং স্ক্রিনে নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। সফলভাবে আবেদন জমা হলে বিকাশ ও ইস্টার্ন ব্যাংক—দুই পক্ষ থেকেই নিশ্চিতকরণ বার্তা পাওয়ার কথা।
ডিপিএস চালু করার পর নির্ধারিত কিস্তির দিনে বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে কিস্তি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই নিয়মিত সঞ্চয় চালিয়ে যেতে হলে নির্ধারিত তারিখের আগে অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় ব্যালেন্স রাখা উচিত। ডিপিএস খোলার আগে নিজের আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী মাসিক কিস্তির পরিমাণ ও মেয়াদ নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিকাশের ডিপিএস সেবায় ইস্টার্ন ব্যাংক যুক্ত হওয়ায় গ্রাহকদের সামনে এখন সঞ্চয়ের আরও একটি বিকল্প তৈরি হয়েছে। বিকাশ বর্তমানে ডিপিএস সেবার আওতায় একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্কিম দেওয়ার কথা জানিয়েছে, যার মধ্যে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসিও রয়েছে।
তবে ডিপিএস খোলার আগে সংশ্লিষ্ট স্কিমের মুনাফার হার, কর ও শুল্ক, কিস্তি সংক্রান্ত নিয়ম, মেয়াদপূর্তির শর্ত এবং আগাম বন্ধ করার নিয়ম ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। কারণ এসব শর্ত স্কিমভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। সবশেষে, বিকাশ অ্যাপের ‘সেভিংস’ অপশনে গিয়ে ইস্টার্ন ব্যাংকের বর্তমান ডিপিএস স্কিম ও প্রযোজ্য শর্ত দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
