অ্যাটলেটিকোর বাধা পেরিয়ে জুলিয়ানকে পেতে শীতে নতুন ছক বার্সার
আলভারেজের জন্য আবারও মাঠে নামবে বার্সা
বার্সেলোনা এই গ্রীষ্মে জুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়াতে ব্যর্থ হলেও ক্লাবটি এখনো তাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখা ছাড়েনি। খবর অনুযায়ী, কাতালান ক্লাবটি আগামী শীতকালীন দলবদলের বাজারে অথবা প্রয়োজনে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকারকে আনার জন্য নতুন করে চেষ্টা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রীষ্মের দলবদলের মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও বার্সেলোনার আগ্রহ এতটুকু কমেনি, বরং ক্লাবটি এখন অপেক্ষা করছে সঠিক সময়ের জন্য, যখন পরিস্থিতি তাদের পক্ষে আরও অনুকূল হবে।
এই গল্পের প্রধান চরিত্র জুলিয়ান আলভারেজ, বর্তমানে আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলা বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড, যাকে বার্সেলোনার স্পোর্টিং ডিরেক্টর দেকো এবং কোচ হান্স-ডিটার ফ্লিক দুজনেই দলে চান। অন্যদিকে আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ, যারা এই মৌসুমে লা লিগার অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে তাদের সেরা খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিতে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছিল। এছাড়া রয়েছেন দিয়েগো সিমিওনে, যার অধীনে আলভারেজ আপাতত মাঠে মনোযোগ ফেরানোর চেষ্টা করছেন।
বার্সেলোনা কেন এখনো আলভারেজের পিছু ছাড়ছে না, তার একটি বড় কারণ হলো তারা তাকে শুধু সাময়িক সমাধান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায়। এই গ্রীষ্মে আলভারেজকে না পেয়ে ক্লাবটি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে সাময়িক সমাধান হিসেবে দলে ভেড়ায়, কিন্তু জেসুসের আগমন আলভারেজ সম্পর্কে ক্লাবের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়নি।
এর পাশাপাশি আরেকটি কারণও কাজ করছে—বার্সেলোনা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কোনো বড় স্ট্রাইকারের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে সেই আর্থিক সামর্থ্য সংরক্ষণ করে রেখেছে, যাতে ভবিষ্যতে আলভারেজের জন্য আবার চেষ্টা করা যায়। ক্লাবটি এখন শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর কথা না ভেবে অনেক বড় পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে।
কীভাবে এই পরিকল্পনা এগোতে পারে তা নিয়েও আলোচনা চলছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বার্সেলোনা আগামী জানুয়ারির শীতকালীন বাজারে একটি প্রাথমিক প্রচেষ্টা চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না, যদিও আতলেতিকোর কঠোর অবস্থান এবং আলভারেজকে কেনার বিশাল খরচের কারণে এই চুক্তি জটিল হয়ে থাকবে। এর আগে স্পেনে এমন খবরও এসেছিল যে বার্সেলোনা আতলেতিকোকে রাজি করাতে ১৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থের প্রস্তাব বিবেচনা করেছিল, যদিও সেই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়নি।
এই টানাপোড়েনের মধ্যে আতলেতিকো মাদ্রিদের ভেতরের পরিবেশও বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। গ্রীষ্মে বার্সেলোনায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর আলভারেজ পরপর তিনটি অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন, যা নিয়ে ক্লাবের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়। কোচ সিমিওনে সংবাদ সম্মেলনে জানান, আলভারেজ শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনুশীলনে ছিলেন না, তবে তিনি যখনই দলের সঙ্গে ফিরবেন, তাকে আগের মতোই গুরুত্ব দেওয়া হবে। আতলেতিকো কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে ও ব্যক্তিগতভাবে আলভারেজকে জানিয়ে দেয় যে তাকে কোনোভাবেই বার্সেলোনায় ছাড়া হবে না, ফলে তার সামনে দুটি পথ খোলা ছিল—আতলেতিকোয় থেকে যাওয়া, নয়তো বার্সেলোনা ছাড়া অন্য কোনো ক্লাবে যাওয়া, যদি সেই ক্লাব নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে রাজি হয়। মাঠের বাইরের এই অস্থিরতার প্রভাব মাঠের ভেতরেও পড়েছে—নিজ সমর্থকদের কাছ থেকেও তিনি একসময় দুয়োধ্বনি শুনেছেন।
এই পুরো ঘটনার কেন্দ্রস্থল স্পেন, বিশেষ করে বার্সেলোনা ও মাদ্রিদ শহর, যেখানে দুই ক্লাবের এই দ্বৈরথ লা লিগার সবচেয়ে আলোচিত দলবদল-কাহিনিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। ক্যাম্প নউকে ঘিরেও একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট আছে, কারণ স্টেডিয়ামটি ২০২৬-২৭ মৌসুমে সম্পূর্ণভাবে পুনরায় চালু হওয়ার কথা, যা বার্সেলোনার আর্থিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ক্লাবটি আশা করছে।
সময়ের হিসেবে দেখলে, এই দলবদল-নাটকের প্রথম অধ্যায় আসতে পারে আগামী জানুয়ারিতে, যখন শীতকালীন বাজার খুলবে। তবে বাস্তবসম্মত সময়সীমা হিসেবে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকেই বেশি সম্ভাবনাময় মনে করা হচ্ছে, কারণ ততদিনে বার্সেলোনা তাদের আর্থিক পরিস্থিতি আরও মজবুত করতে পারবে এবং আতলেতিকোর সঙ্গে আলভারেজের সম্পর্ক কোন দিকে গড়ায় তাও স্পষ্ট হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা নির্ভর করছে আতলেতিকোর অবস্থান পরিবর্তন এবং আলভারেজ নিজে আবার ক্লাব ছাড়ার জন্য চাপ দেন কিনা, তার ওপর।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
