বাংলাদেশে ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই: জাতিসংঘ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য থেকে বঞ্চিত। জাতিসংঘের সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশের ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ ব্যক্তি স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেননি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ হার পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে ৬৩ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য ছিল না। বাংলাদেশে এ হার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যকর খাদ্য বলতে প্রতিদিন মাথাপিছু প্রায় ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি সরবরাহে সক্ষম এমন খাদ্যতালিকাকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটি জাতীয় খাদ্য, বাদাম ও বীজ, শাকসবজি, ফলমূল এবং তেল-চর্বি—এই ছয়টি খাদ্যগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত।

বিশ্বব্যাপী চিত্রও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ২৬৯ কোটি মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ, স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখতেন না। এর মধ্যে আফ্রিকায় এ হার সবচেয়ে বেশি ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এশিয়ায় এ হার ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বলেন, দেশের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এখনও স্বাস্থ্যকর খাদ্য সহজলভ্য নয়। বিশেষ করে দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস ও ফলমূলের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য কিনতে পারছে না। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যের দাম বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত স্থানীয় বাজারে পড়লেও দাম কমার সুফল ভোক্তারা অনেক দেরিতে পান।

বেড়েছে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের দৈনিক ব্যয়
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে একজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণে দৈনিক গড় ব্যয় ২০১৭ সালের ৩ দশমিক ৯ ডলার (ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুযায়ী) থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। এই ব্যয়ের বড় অংশই প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল ও শাকসবজি কেনার পেছনে ব্যয় হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ব্যয়ের দিক থেকে ভুটান (৬ দশমিক ১৭ ডলার) ও শ্রীলঙ্কার (৫ দশমিক ২১ ডলার) পরেই রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্যহীন মানুষের হার সবচেয়ে বেশি হলেও সেখানে এ ধরনের খাদ্যের গড় ব্যয় তুলনামূলক কম, ৩ দশমিক ৯৪ ডলার।

তবে প্রতিবেদনে ইতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে দেশের ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ বা প্রায় ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য ছিল না, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। মানুষের আয় খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় দ্রুত বাড়ায় এ উন্নতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য আরও সহজলভ্য করতে প্রতিবেদনে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় কমানো, পরিবহন ও সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন, বাজার তথ্যব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং খাদ্যের অপচয় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন