রিজিক ও বরকত লাভে কুরআন-হাদিসে যেসব আমলের কথা বলা হয়েছে
রিজিক ও বরকত লাভের আমল
রিজিক মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জীবিকা, সম্পদ ও দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণে মানুষ যেমন পরিশ্রম করে, তেমনি ইসলামে আল্লাহর ওপর ভরসা, ইস্তিগফার, তাকওয়া, শুকরিয়া, সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে রিজিক ও জীবনে বরকত লাভের জন্য এসব আমলের কথা উল্লেখ রয়েছে।
পবিত্র কুরআনের সুরা নূহের ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াতে হজরত নূহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান। সেখানে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করলে তিনি প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন। এ আয়াত থেকে ইস্তিগফারের গুরুত্ব এবং আল্লাহর রহমত ও নিয়ামত লাভের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
সুরা আত-তালাকের ২ ও ৩ নম্বর আয়াতে তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তরণের পথ এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিকের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বিপদ ও সংকটের সময় আল্লাহভীতি ও তাঁর ওপর আস্থা রাখার গুরুত্ব ইসলামে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া সুরা ইব্রাহিমের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের প্রতিদান হিসেবে আরও নিয়ামত বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে সুরা আল-বাকারার ২৭৬ নম্বর আয়াতে সুদকে ধ্বংসকারী এবং সদকাকে বরকতদায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা আল-আরাফের ৯৬ নম্বর আয়াতেও ঈমান ও তাকওয়ার কারণে আসমান ও জমিনের বরকতের দরজা খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
হাদিসেও রিজিক ও বরকতের বিভিন্ন আমলের কথা এসেছে। সুনানে ইবনে মাজাহর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের নামাজের পর উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিজিক ও কবুলযোগ্য আমলের জন্য দোয়া করতেন। সহিহ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাকে রিজিক বৃদ্ধি ও আয়ু দীর্ঘ হওয়ার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তিরমিজির একটি হাদিসে পাখির উদাহরণ দিয়ে আল্লাহর ওপর যথাযথ তাওয়াক্কুলের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। পাখি সকালে খালি পেটে বের হয়ে সন্ধ্যায় পরিতৃপ্ত হয়ে ফিরে আসে। এতে আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি জীবিকার জন্য চেষ্টা করার বিষয়টিও প্রতিফলিত হয়।
অন্য একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতের ভোরের কাজের মধ্যে বরকতের জন্য দোয়া করেছেন। আবার সহিহ বুখারির বর্ণনায় প্রতিদিন সকালে সদকা করা ব্যক্তির জন্য ফেরেশতার দোয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সব মিলিয়ে কুরআন ও হাদিসের এসব নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, রিজিকের বরকতের জন্য শুধু সম্পদ অর্জনের চেষ্টা নয়; বরং ইস্তিগফার, তাকওয়া, শুকরিয়া, সদকা, আত্মীয়তার সম্পর্ক, তাওয়াক্কুল এবং হালাল পথে পরিশ্রম—সবকিছুর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
