বাংলাদেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে তিন মাসের মধ্যে : চিফ হুইপ

প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে তিন মাসের মধ্যে : চিফ হুইপ

তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা

আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে লেখাপড়া, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে যারা পৃষ্ঠপোষকতা বা মদদ দেয়, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। যে দলের বা যে পরিচয়েরই হোক না কেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কিশোরদের হাতে অস্ত্র নয়, বই দেখতে চান। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকসসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে কিশোরদের দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী দক্ষতা কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলেই ঢালাওভাবে সরকারের ওপর দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের প্রবণতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিশোর গ্যাং পরিচালনাকারীরা নতুন পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠিত করার চেষ্টা করতে পারে। তাই এসব ব্যক্তি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা পৃষ্ঠপোষক ও তথাকথিত ‘বড় ভাইদের’ চিহ্নিত করতে হবে। শুধু কিশোরদের গ্রেপ্তার বা শাস্তি দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। যারা কিশোরদের ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলনই অধিক কার্যকর’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্কে সরকারি দল হিসেবে সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিরোধী দল হিসেবে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিতার্কিকরা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিজয়ী হয়।

পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, মানসম্মত শিক্ষা, খেলাধুলা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page