আত্রাইয়ে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশঝাড়, বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ চিত্র

প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
আত্রাইয়ে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশঝাড়, বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ চিত্র

সময় ও পরিবর্তিত জীবনযাত্রায় কমছে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাঁশঝাড়।

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় দিন দিন কমে যাচ্ছে বাঁশঝাড়ের সংখ্যা। একসময় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, বাড়ির আঙিনা ও জঙ্গলঘেরা এলাকায় প্রচুর বাঁশঝাড় দেখা গেলেও বর্তমানে আগের মতো আর চোখে পড়ে না। এতে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ পরিবেশের চিরচেনা দৃশ্য।

শনিবার (৩ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক স্থানেই আগের তুলনায় বাঁশঝাড়ের পরিমাণ কমেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সময়ের সঙ্গে জমির ব্যবহার, বসতবাড়ির ধরনে পরিবর্তন, পুরোনো বাঁশঝাড়ের পরিচর্যার অভাব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাঁশ কাটার কারণে বিভিন্ন এলাকায় বাঁশঝাড় কমে গেছে।

তবে আত্রাই উপজেলায় কী পরিমাণ বাঁশঝাড় কমেছে, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো জরিপ বা সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ থেকেই বাঁশঝাড় কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

একসময় গ্রামের বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় ছিল খুবই পরিচিত দৃশ্য। বাড়ির সীমানা, পুকুরপাড়, জমির আইল কিংবা পতিত জায়গায় স্বাভাবিকভাবেই গড়ে উঠত বাঁশের ঝাড়। গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে বাঁশের ব্যবহারও ছিল নিবিড়ভাবে জড়িত।

স্থানীয়রা জানান, ঘরবাড়ি নির্মাণ, বেড়া তৈরি, মাচা, ঝুড়ি, ডালা, কঞ্চি এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজে দীর্ঘদিন ধরে বাঁশ ব্যবহার হয়ে আসছে। কৃষিকাজসহ দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনেও বাঁশের ব্যবহার ছিল ব্যাপক।

তাদের মতে, বাঁশঝাড় কমে যাওয়ার ফলে একদিকে যেমন গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে পরিবর্তন আসছে, অন্যদিকে বিভিন্ন কাজে প্রয়োজনীয় বাঁশের সহজলভ্যতাও আগের তুলনায় কমে যাচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আগে অনেক বাড়িতেই নিজস্ব বাঁশঝাড় থাকত। প্রয়োজন হলে সেখান থেকেই বাঁশ সংগ্রহ করা যেত। কিন্তু বর্তমানে অনেক বাড়ির জায়গা পাকা ঘর, বাগান বা অন্য কাজে ব্যবহার হওয়ায় বাঁশঝাড় রাখার সুযোগ কমেছে।

এ ছাড়া পুরোনো বাঁশঝাড় নিয়মিত পরিচর্যা না করা এবং নতুন করে বাঁশ রোপণের প্রবণতা কমে যাওয়াকেও এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

পরিবেশ ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বাঁশঝাড় সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন মানুষ। তাদের মতে, বাড়ির আঙিনা, পতিত জমি ও উপযুক্ত স্থানে নতুন করে বাঁশ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ প্রাকৃতিক সম্পদ ধরে রাখা সম্ভব।

স্থানীয়রা মনে করছেন, বাঁশ শুধু একটি গাছ নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বাঁশঝাড় সংরক্ষণে ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page