মীমাংসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইবিতে ফের সংঘর্ষ আহত প্রক্টরসহ শিক্ষকরা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার পরও থামেনি। বুধবার সকালে প্রক্টর অফিসে দুই পক্ষের বৈঠকে সমঝোতা হলেও দুপুরে ফের হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের সভাপতি, বাংলা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকসহ উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষে আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়াগামী গোধূলী বাসে উচ্চস্বরে কথা বলা নিয়ে আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের সঙ্গে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কথাকাটাকাটি হয়। কুষ্টিয়ার জেলখানা মোড় এলাকায় বাস থেকে নামার পর বিষয়টি হাতাহাতিতে গড়ায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসে আবু সাঈদসহ কয়েকজন সহপাঠী উচ্চস্বরে গল্প করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে জেলখানা মোড় এলাকায় আইসিটি বিভাগের আবু সাঈদ ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী বাপ্পির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে এগিয়ে এলে তার সঙ্গে আবু সাঈদের হাতাহাতি হয়।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা আহত হওয়ার দাবি করেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাতাহাতির সময় হৃদয়ের নাক দিয়ে রক্ত বের হয়। অন্যদিকে আবু সাঈদের হাত কাঁচে লেগে কেটে যায় বলে আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে দুই বিভাগের শিক্ষার্থী, উভয় বিভাগের সভাপতি এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরস্পরকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা করবেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এর দায়ভার নিতে হবে। পাশাপাশি দুই বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে বৈঠকের পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরে প্রক্টর অফিস থেকে বের হওয়ার সময় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, আইসিটি বিভাগের সভাপতি এবং বাংলা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক আহত হন বলে জানা গেছে। এ সময় আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুরুতর আহত হলে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে পাঠানো হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে পড়লে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। জড়িত শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর বাংলা বিভাগের সভাপতি বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। সেখানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভাগের পক্ষ থেকে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, তিনি উপাচার্যের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জানানো হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মীমাংসার পরও পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
