ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক অভিযোগ।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ডিবেটিং সোসাইটির (আইইউডিএস) সভাপতি ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে সংগঠনের প্রায় ১৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট থেকে নিজের তথ্য গোপন করে নিয়মিত বৃত্তি নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংগঠনটির প্রতিনিধি মিশুক শাহরিয়ার। এর আগে কমিটি গঠন, রাজনৈতিক ট্যাগিং, সদস্যদের হয়রানি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি গঠনেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর কমিটিটি স্থগিত করেছে হল প্রশাসন। তবে এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইয়াছিন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির সদ্য ঘোষিত কমিটি স্থগিত করেন হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। কমিটির সভাপতি মোহাইমিনুল ইসলাম রক্তিমের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও যোগ্যদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ ওঠে। কমিটি গঠনে আইইউডিএস সভাপতি ইয়াছিন আলীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে আসে। তবে ইয়াছিনের দাবি, হল ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি হলের সাবেক দায়িত্বশীল ও প্রভোস্টের অনুমোদনেই করা হয়। প্রভোস্ট জানান, এ কমিটিকে আইইউডিএসের সভাপতি ইয়াসিন আলী শুভেচ্ছা জানায়। তাড়াহুড়ো করে তার কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া হলেও পরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে গত ১২ জুলাই ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন মিশুক শাহরিয়ার। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রাজনৈতিক ট্যাগিং দিয়ে তাকে কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তার দাবি, আইইউডিএস নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর তাকে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে কমিটিতে না রাখার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে তার সম্পর্কে জুনিয়র সদস্য ও হল প্রভোস্টের কাছে ভুল বা অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। মিশুকের অভিযোগ, আইইউডিএসের কমিটি গঠনের সময় উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তও অনুসরণ করা হয়নি। তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও একেবারেই কমিটিতে রাখা হয়নি, অন্যদিকে হল কমিটির আনুষ্ঠানিক সদস্য নন এমন একজনকে কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে সম্প্রতি আইইউডিএসের মডারেটর বরাবর দেওয়া আরেক লিখিত অভিযোগে সংগঠনটির এডুকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি এবং সাদ্দাম হোসেন হল ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. শান্ত শিশির ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তার অভিযোগ, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া এক্সিকিউটিভ কমিটি বা হল ডিবেটিং সোসাইটিগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে বিতার্কিকদের জাতীয় উৎসবে পাঠানো, বিভিন্ন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হয়রানি, মেধাবী বিতার্কিকদের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা এবং হলগুলোর সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও করেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে আইইউডিএসের অর্থ (প্রায় ১৮০০০) আত্মসাতের মতো অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা রয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগের সূত্রপাত হিসেবে মিশুক শাহরিয়ার জানান, ইয়াছিন আলী মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট থেকে নিজের তথ্য গোপন রেখে নিয়মিত বৃত্তি নিতেন। আমি সংগঠনটির প্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টি সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জানানোর পর থেকে ইয়াসিন আলী আমাকে একাধিক বার রুমে ডেকে মানসিকভাবে হয়রানির করেন, রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে আইইউডিএসের কমিটি থেকে বাদ দেন, লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির স্থগিত কমিটিতেও মূল্যায়ন করা হয়নি ।
এবিষয়ে ইয়াছিন আলী বলেন, আমাদের ট্রেজারারের কাছে আন্তঃডিপার্টমেন্টের ১৮হাজার টাকা আছে। আর মোরাল প্যারেন্টিংয়ে আমি ২০২২ সাল থেকে বৃত্তি পেতাম। আমার এখনো মাস্টার্স শেষ হয়নি তাই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে মাস্টার্স শেষ হওয়া পর্যন্ত এই বৃত্তিটা কন্টিনিউ করবো। এখানে তথ্য গোপন করার মতো কিছু হয়নি।
তিনি আরও বলেন, লালন শাহ হল কমিটিকে আমি শুভেচ্ছা জানাইনি। এটা সম্পূর্ণ হয় প্রেসিডেন্টের মতামতে। আর আমি যেহেতু সেক্রেটারি ছিলাম তাই ওই জায়গাটা আমার ছিল না। এছাড়াও ট্যাগিংয়ের ব্যাপারটা তো সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটা নিয়ে আমাদের আগের মডারেটরের সঙ্গে আমাদের বডির মিটিং হয়েছিল, সেই মিটিংয়ে বিষয়গুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং আমরা প্রেস রিলিজও করেছিলাম। আর ন্যাশনাল ডিবেটে টিম পাঠানোর ক্ষেত্রে আমাদের সেক্রেটারিয়েট বডির যারা সিনিয়র থাকে, তারা আলোচনা করে কাকে কাকে পাঠালে ভালো হয় বা যারা ভালো ডিবেট করতেছে তাদেরকে পাঠানো হয়।”
মোরাল প্যারেন্টিংয়ের ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের লেকচারার ফয়াসাল হোসেন বলেন, তথ্য গোপন করে বৃত্তি নেওয়ার বিষয়টি আমরা কিছুদিন আগে অবগত হই। এরপর আমরা আমাদের নির্বাহী সদস্যদের তার তথ্য গোপনের বিষটি জানাই। পরে ইয়াসিন তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করে।
এ বিষয়ে আইইউডিএস এর মডারেটর লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলফিকার হোসেন বলেন, এখন আমি দায়িত্বে আসছি, আমি এগুলো দেখব। আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির কোনো ইউনিভার্সিটি অ্যাকাউন্ট ছিল না। আমি এবার ইসলামী ডিবেটিং সোসাইটির নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছি। আগে কোনো ফান্ড থাকলে সেটাও আমি দেখব।
তিনি আরো বলেন, এখন থেকে সব টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যেন স্বচ্ছতা থাকে। ব্যক্তিগত কোনো অভিযোগ থাকলে সেটাও দেখব। আমি চাই ডিবেটিং সোসাইটিটা যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, সে উদ্দেশ্যে সুন্দরভাবে ও কার্যকরভাবে চলুক। প্রয়োজনে নতুন করে অর্ডিন্যান্স তৈরি করব।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
