বাড়ি নির্মাণে ঋণ পাবে নিম্ন-মধ্যম আয়ের ৬০ হাজার পরিবার

প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
বাড়ি নির্মাণে ঋণ পাবে নিম্ন-মধ্যম আয়ের ৬০ হাজার পরিবার

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের আবাসন অর্থায়নে ১০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এডিবি।

বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের আবাসন সুবিধা বাড়াতে ১০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২২৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। প্রস্তাবিত ‘ইনক্লুসিভ অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাইন্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় বাড়ি নির্মাণ, সম্প্রসারণ ও মেরামতের জন্য এ অর্থ ব্যবহারের কথা রয়েছে।

প্রকল্পের অর্থ পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে যোগ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতবিহীন আবাসন ঋণ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এডিবির প্রকল্প নথিতে বিশেষভাবে নারীদের আবাসন অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় নতুন বাড়ি নির্মাণ, বিদ্যমান বাড়ির সম্প্রসারণ এবং মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিন ধরনের ঋণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এডিবির নথি অনুযায়ী, যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য এসব ঋণ জামানত ছাড়াই দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ঋণের অন্তত ৮০ শতাংশ নারীদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

আপনার দেওয়া প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, একজন ঋণগ্রহীতা গড়ে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন এবং সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ হতে পারে ৬ লাখ টাকা। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ কমপক্ষে পাঁচ বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসে ৩০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা আয় করেন—এমন পরিবারকে এ ঋণের জন্য যোগ্য বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। পরিবারের মাসিক আয়ের ৩০ শতাংশের কম রাখার কথা রয়েছে ঋণের কিস্তি।

তবে ঋণের সুদের হার কত হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে পিকেএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সরকার থেকে পিকেএসএফ, পিকেএসএফ থেকে অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং পরে ঋণগ্রহীতার পর্যায়ে কী হারে সুদ নির্ধারণ করা হবে, তা ঋণচুক্তির আগে অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করার কথা রয়েছে।

পিকেএসএফ ২০১৯ সালে নিজস্ব অর্থায়নে ‘আবাসন’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করে। ওই কর্মসূচির আওতায় বাড়ি নির্মাণ, মেরামত ও সম্প্রসারণের জন্য এখন পর্যন্ত ৫১ হাজার ২৪৬ জনকে ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন অর্থায়ন কার্যকর হলে বিদ্যমান কর্মসূচির তুলনায় কম সুদে আবাসন ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এডিবির প্রকল্প নথিতে বাংলাদেশের আবাসন ঘাটতির চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে আবাসনের ঘাটতি প্রায় ৬০ লাখ ইউনিট। ২০৩০ সাল নাগাদ এ ঘাটতি বেড়ে ১ কোটি ৫ লাখ ইউনিট হতে পারে। বছরে প্রায় ৩১ হাজার ৫০০টি আবাসন ইউনিট নির্মিত হলেও তা আনুমানিক চাহিদার মাত্র ১ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রায় ১৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষ এখনো বস্তিতে বসবাস করছে।

প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এডিবির মতে, আনুষ্ঠানিক জমির মালিকানার দলিলের অভাব, জামানতের সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ কম থাকা এবং সাশ্রয়ী ঋণপণ্যের ঘাটতির কারণে এই শ্রেণির পরিবারগুলো আবাসন অর্থায়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু ও দুর্যোগ-সহনশীল বাড়ি নির্মাণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এডিবির নথিতে বলা হয়েছে, অর্থায়নের আওতায় নির্মিত বা উন্নত করা বাড়িগুলোতে দুর্যোগ ও জলবায়ু সহনশীল নির্মাণপদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে প্রকল্পের উপকারভোগীর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। আপনার দেওয়া প্রকল্প তথ্যে ৬০ হাজার পরিবারের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এডিবির বর্তমান প্রকল্প পাতায় নির্দিষ্ট উপকারভোগীর সংখ্যা আলাদাভাবে উল্লেখ না করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার এবং বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্যগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ঋণ বিতরণের চূড়ান্ত সংখ্যা বাস্তবায়ন কাঠামো ও অনুমোদিত প্রকল্প নথি অনুযায়ী নিশ্চিত হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page