ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার আগে যেসব তথ্য ঠিক রাখতে হবে
বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই
ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করে রাখা জরুরি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল বা বিএসপিতে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স, লাইসেন্স নবায়ন, ডুপ্লিকেট লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নেওয়া যায়। তবে আবেদন করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তথ্য সঠিক না থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য। বিআরটিএর বিএসপি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং মোবাইল নম্বর দিতে হয়। পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৩ সংখ্যার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর হলে তার আগে জন্মসাল যুক্ত করতে হয়। একই সঙ্গে যে মোবাইল নম্বর দেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। তাই ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন শুরুর আগেই নিজের এনআইডি ও মোবাইল নম্বরের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
জন্মতারিখের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। এনআইডিতে থাকা জন্মতারিখ এবং আবেদন ফরমে দেওয়া জন্মতারিখের মধ্যে অমিল থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। তাই নিজের জন্মতারিখ মনে করে বা অনুমান করে না লিখে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেখে আবেদন করা উচিত। বিএসপি অ্যাকাউন্ট তৈরির সময়ও জন্মতারিখ দিতে হয় এবং পরবর্তী সেবা গ্রহণের সময় একই তথ্য ব্যবহৃত হয়।
নামের তথ্যও আবেদনকারীদের ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে। নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া উচিত। বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হয়। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি বানান ও তথ্য পুনরায় পরীক্ষা করা নিরাপদ।
ঠিকানার তথ্যের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীকে তার স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেলের আওতায় আবেদন করতে হয়। অনলাইন লার্নার লাইসেন্স আবেদনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্রে থাকা ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা আলাদা হলে বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ইউটিলিটি বিল সংযুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে।
আবেদন করার আগে নিজের মোবাইল নম্বরটিও সচল রাখতে হবে। কারণ বিএসপি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে মোবাইল নম্বরের সম্পর্ক রয়েছে এবং বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের সময় এই নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই দেওয়া এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে বলে বিআরটিএর পোর্টালে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর প্রয়োজনীয় ছবি ও ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখতে হবে। বিএসপির নাগরিক নির্দেশিকায় লার্নার লাইসেন্স আবেদনের জন্য আবেদনকারীর ছবি, নিবন্ধিত চিকিৎসকের মেডিকেল সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ বা পাসপোর্টের কপি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বর্তমান ঠিকানার ইউটিলিটি বিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় ছবির সর্বোচ্চ ফাইল সাইজ ১৫০ কিলোবাইট এবং অন্যান্য উল্লেখিত ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোবাইট পর্যন্ত ফাইল সাইজের কথা বলা হয়েছে।
মেডিকেল সার্টিফিকেটের তথ্যও আগে থেকে প্রস্তুত রাখা দরকার। বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রয়োজন। তাই আবেদন করার আগে নির্ধারিত মেডিকেল ফরম ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ঠিকভাবে সংগ্রহ করে রাখা উচিত।
আবেদনকারী কোন ধরনের যানবাহনের জন্য লাইসেন্স নিতে চান, সেটিও আগে ঠিক করে নিতে হবে। কারণ লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনে যানবাহনের ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হয় এবং বিআরটিএর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এক ক্যাটাগরি ও দুই ক্যাটাগরির জন্য ফি আলাদা। বর্তমানে বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স পেজে এক ক্যাটাগরির লার্নার লাইসেন্সের ফি ৩৪৫ টাকা এবং দুই ক্যাটাগরির জন্য ৫১৮ টাকা উল্লেখ রয়েছে। তবে আবেদন করার সময় বিএসপি পোর্টারে প্রদর্শিত বর্তমান ফি যাচাই করে নেওয়া উচিত।
আবেদনের আগে পেমেন্টের ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা ভালো। বিআরটিএর বিএসপি পোর্টালে ফি ক্যালকুলেটর এবং পেমেন্ট যাচাইয়ের সুবিধা রয়েছে। একই সঙ্গে কোন কোন ব্যাংকের মাধ্যমে ফি দেওয়া যায়, সেই তথ্যও পোর্টালে দেওয়া হয়। ফলে টাকা দেওয়ার আগে নির্ধারিত ফি যাচাই করে এবং সঠিক সেবার জন্য পেমেন্ট করা উচিত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনলাইনে আবেদন করলেই ড্রাইভিং লাইসেন্সের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায় না। লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয় এবং পরে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশ নিতে হয়। বিআরটিএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, লার্নার লাইসেন্স ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পূর্বশর্ত এবং প্রশিক্ষণের পর নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ পর্যায়ে আবেদনকারীর ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপের মতো বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়। তাই আবেদনকারীকে মনে রাখতে হবে, অনলাইনে তথ্য দেওয়ার সময় যে পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, পরবর্তী ধাপেও সেই তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকতে হবে।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার আগে তাই জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, নিজের নাম ও অভিভাবকের নাম, এনআইডি-নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, প্রয়োজনীয় ছবি, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য কাগজপত্র একবার যাচাই করে নেওয়া উচিত। এরপর বিএসপিতে অ্যাকাউন্ট খুলে ধাপে ধাপে আবেদন করলে ভুলের ঝুঁকি কমে। বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালেই বর্তমানে বিভিন্ন ড্রাইভিং লাইসেন্স সেবার আবেদন, ফি প্রদান, পেমেন্ট যাচাই এবং পরীক্ষার ফলাফলসহ বিভিন্ন অনলাইন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
