২০৯৯ সাল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মুখে আর্জেন্টাইন তারকা
ফুটবল মাঠে নয়, এবার রাস্তায় বড় শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনার তারকা
চলন্ত গাড়ির একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাউরো ইকার্দি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে ইকার্দির সঙ্গী চায়না সুয়ারেজকে চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে শরীরের বড় অংশ বাইরে বের করে থাকতে দেখা যায়। তার গায়ে সিটবেল্টও ছিল না। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি বুয়েনস আইরেস প্রদেশের পরিবহন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। তদন্তের পর কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, গাড়ি চালানোর সময় ইকার্দির আর্জেন্টাইন ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরপর তাকে প্রতিরোধমূলকভাবে গাড়ি চালানো থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
ঘটনাটির মূল চরিত্র মাউরো ইকার্দি আর্জেন্টিনার পরিচিত ফুটবলার। তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন এবং ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে দীর্ঘ সময় ফুটবল খেলেছেন। বর্তমানে তার ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ ক্লাব নিয়ে আলোচনার মধ্যেই গাড়ি চালানোকে ঘিরে এই নতুন ঘটনা সামনে এসেছে। অন্যদিকে ভিডিওটি প্রকাশ করেছিলেন তার সঙ্গী ইউজেনিয়া ‘চায়না’ সুয়ারেজ। বুয়েনস আইরেস প্রদেশের সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ভিডিওতে সুয়ারেজকে সিটবেল্ট খুলে জানালার ওপর উঠে শরীরের বড় অংশ গাড়ির বাইরে নিতে দেখা যায়, যখন ইকার্দি চালকের আসনে ছিলেন।
ভিডিওটি প্রকাশের পর কেন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিল, তার পেছনে শুধু যাত্রীর নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি ছিল না। তদন্তের সময় ইকার্দির গাড়ি চালানোর অনুমতিও যাচাই করা হয়। বুয়েনস আইরেস প্রদেশের পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানায়, ইকার্দির আর্জেন্টাইন ড্রাইভিং লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৯ সালের মে মাসে শেষ হয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর প্রাদেশিক সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ইকার্দির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, চালকের দায়িত্ব শুধু নিজের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা নয়, গাড়িতে থাকা যাত্রী এবং আশপাশের অন্য সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা। ভিডিওতে যাত্রী গাড়ির জানালা দিয়ে শরীর বের করে থাকা অবস্থায় গাড়ি চলতে থাকায় চালকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের আচরণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাশাপাশি গাড়ির অন্য যাত্রী এবং তৃতীয় পক্ষের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে।
এই ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো ২০৯৯ সাল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার দাবি। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইকার্দির ওপর আরোপ করা ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০৯৯ সাল পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় ইকার্দির বয়স হবে প্রায় ১০৫ বছর। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—বুয়েনস আইরেস প্রদেশের সরকারি বিবৃতিতে মূলত তাকে প্রতিরোধমূলকভাবে গাড়ি চালানো থেকে অযোগ্য ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছে এবং নতুন লাইসেন্স পেতে নির্ধারিত মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে ২০৯৯ সালকে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার শেষ তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে ইকার্দিও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, তার কাছে একটি বৈধ ইতালীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। ইকার্দির বক্তব্যের ফলে আর্জেন্টাইন লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং ইতালীয় লাইসেন্সের বৈধতা—দুটি আলাদা বিষয় সামনে এসেছে। লা নাসিওনও জানিয়েছে, ইকার্দি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, চায়না সুয়ারেজের প্রকাশ করা একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও থেকেই শুরু হয় ঘটনাটি। ভিডিওতে নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের দৃশ্য নজরে আসার পর কর্তৃপক্ষ ইকার্দির লাইসেন্স যাচাই করে এবং সেটি মেয়াদোত্তীর্ণ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এখন নতুন করে গাড়ি চালানোর অনুমতি পেতে ইকার্দিকে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আর ২০৯৯ সাল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও, সরকারি নথির ভাষা অনুযায়ী এটিকে প্রতিরোধমূলক অযোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করাই সবচেয়ে নির্ভুল।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
