সৌন্দর্যের আড়ালে ভয়ংকর বিষ! বিশ্বের ১০টি বিষাক্ত গাছ

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
সৌন্দর্যের আড়ালে ভয়ংকর বিষ! বিশ্বের ১০টি বিষাক্ত গাছ

দেখতে সুন্দর হলেও বিশ্বের কিছু গাছে রয়েছে মানুষের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান।

প্রকৃতিতে এমন অনেক গাছ রয়েছে, যেগুলো দেখতে আকর্ষণীয় হলেও শরীরের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত। কোনো গাছের বীজে থাকে শক্তিশালী টক্সিন, কোনো গাছের পাতা বা রসে রয়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক, আবার কোনো গাছের অংশ খেলে হৃদ্‌যন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র বা শরীরের অন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন সূত্রে ক্যাস্টর বিন, রোজারি পি, ওলিয়েন্ডার, পয়জন হেমলক ও ওয়াটার হেমলকসহ কয়েকটি উদ্ভিদকে অত্যন্ত বিষাক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের বিষাক্ত উদ্ভিদের তালিকা নির্দিষ্ট করে ‘সবচেয়ে বিষাক্ত’ হিসেবে সাজানো সহজ নয়। কারণ বিষাক্ততার মাত্রা নির্ভর করে গাছের কোন অংশ খাওয়া বা স্পর্শ করা হয়েছে, কতটা বিষ শরীরে গেছে এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর। তবে পরিচিত ও বিপজ্জনক ১০টি উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে—

১. ক্যাস্টর বিন গাছ (Ricinus communis)

ক্যাস্টর বিন বা রেড়ি গাছের বীজে রিসিন নামের অত্যন্ত শক্তিশালী বিষাক্ত প্রোটিন থাকে। বীজ চিবিয়ে খেলে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে বমি, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া ও বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।

২. রোজারি পি (Abrus precatorius)

লাল ও কালো রঙের আকর্ষণীয় বীজের জন্য এই লতাগাছটি পরিচিত। পুরো গাছেই বিষাক্ত উপাদান থাকলেও বীজে অ্যাব্রিন নামের শক্তিশালী টক্সিন রয়েছে। ভুল করে বীজ খেলে গুরুতর বিষক্রিয়া হতে পারে।

৩. ওলিয়েন্ডার (Nerium oleander)

গোলাপি, সাদা বা লাল ফুলের কারণে ওলিয়েন্ডার দেখতে বেশ সুন্দর। কিন্তু গাছটির পাতা, ফুল, কাণ্ডসহ বিভিন্ন অংশে হৃদ্‌যন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। বিষক্রিয়ায় হৃদ্‌স্পন্দনের ছন্দে সমস্যা, বমি ও অন্যান্য গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

৪. পয়জন হেমলক (Conium maculatum)

দেখতে সাধারণ বুনো উদ্ভিদের মতো হলেও পয়জন হেমলক অত্যন্ত বিষাক্ত। এতে থাকা কনিইনসহ বিষাক্ত উপাদান স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে। গুরুতর বিষক্রিয়ায় পেশির দুর্বলতা, খিঁচুনি ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে।

৫. ওয়াটার হেমলক (Cicuta)

হেমলক পরিবারের এই উদ্ভিদকে অত্যন্ত বিষাক্ত উদ্ভিদের মধ্যে ধরা হয়। এর বিষক্রিয়ায় দ্রুত স্নায়বিক সমস্যা, খিঁচুনি, অচেতনতা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটতে পারে।

৬. ফক্সগ্লাভ (Digitalis purpurea)

বেগুনি বা গোলাপি ঘণ্টার মতো ফুলের জন্য ফক্সগ্লাভ বাগানের আকর্ষণীয় উদ্ভিদ হলেও এটি বিষাক্ত। এতে থাকা ডিগক্সিনজাতীয় উপাদান হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

৭. ডেডলি নাইটশেড (Atropa belladonna)

কালচে-রঙের বেরির কারণে এই উদ্ভিদ দেখতে আকর্ষণীয় হতে পারে। কিন্তু এতে থাকা বিষাক্ত অ্যালকালয়েড স্নায়ুতন্ত্রে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। Poison Control-এর তালিকাতেও এটি বিষাক্ত উদ্ভিদ হিসেবে রয়েছে।

৮. মঙ্কসহুড বা অ্যাকোনাইট (Aconitum)

নীলচে-বেগুনি ফুলের জন্য মঙ্কসহুড বেশ সুন্দর। কিন্তু অ্যাকোনাইট প্রজাতির উদ্ভিদ অত্যন্ত বিষাক্ত হিসেবে চিকিৎসাবিষয়ক সূত্রে তালিকাভুক্ত। বিষক্রিয়ায় স্নায়ুতন্ত্র ও হৃদ্‌যন্ত্র আক্রান্ত হতে পারে।

৯. ম্যানচিনিল (Hippomane mancinella)

সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে পাওয়া এই গাছের ফল দেখতে ছোট আপেলের মতো। গাছটির রস ত্বকে লাগলে জ্বালা, প্রদাহ ও ফোসকা তৈরি করতে পারে। এর ফলসহ বিভিন্ন অংশ বিষাক্ত হিসেবে পরিচিত।

১০. জিমসন উইড বা ধুতুরা (Datura stramonium)

ধুতুরা জাতীয় উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে অ্যান্টিকোলিনার্জিক বিষাক্ত উপাদান থাকে। বিশেষ করে বীজ ও অন্যান্য অংশ খেলে বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ, হৃদ্‌স্পন্দনের পরিবর্তন ও গুরুতর স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অচেনা কোনো গাছ, ফল, বীজ বা পাতা কখনোই খাওয়া উচিত নয়। বাইরে পাওয়া কোনো উদ্ভিদকে ভেষজ বা ঘরোয়া চিকিৎসার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করার আগেও সেটি সঠিকভাবে শনাক্ত করা জরুরি। কোনো বিষাক্ত উদ্ভিদ খাওয়ার বা শরীরে লাগার ঘটনা ঘটলে উপসর্গের অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া উচিত।

সূত্র: Poison Control

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page