আফগানিস্তান টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলে জায়গা পেলেন যারা
শান্তর নেতৃত্বে আফগানিস্তান টেস্টের দল, রিজার্ভে তিন ক্রিকেটার
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য নাজমুল হোসেন শান্তকে অধিনায়ক করে স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। দীর্ঘ সংস্করণের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে অভিজ্ঞ ও নিয়মিত ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বোলিং বিভাগেও রাখা হয়েছে একাধিক বিকল্প। ঘোষিত দলে রয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান, শাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন ও শরীফুল ইসলাম। দলটির নেতৃত্বে থাকবেন শান্ত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটি ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি রয়েছে।
দলে শান্তর নেতৃত্বের পাশাপাশি ব্যাটিং বিভাগে অভিজ্ঞতার বড় অংশ থাকছে মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক ও লিটন দাসের ওপর। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান ও শাদমান ইসলামের মতো ক্রিকেটাররা থাকায় নির্বাচকদের হাতে একাধিক বিকল্পও রয়েছে। সৌম্য সরকার ও তাওহীদ হৃদয়ের অন্তর্ভুক্তি ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বেও রয়েছে অভিজ্ঞতা ও বিকল্পের সমন্বয়। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে থাকা মুশফিকুর রহিম আবারও দলে আছেন। একই সঙ্গে লিটন দাসও স্কোয়াডে রয়েছেন। ফলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দীর্ঘ ইনিংস গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বোলিং বিভাগে বাংলাদেশ দলে রয়েছে অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্য। স্পিন আক্রমণে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম রয়েছেন, যারা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের নিয়মিত বোলিং অস্ত্র হিসেবে পরিচিত। পেস বিভাগে হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন ও শরীফুল ইসলামের ওপর নজর থাকবে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশনে দলীয় সমন্বয় এবং বোলারদের কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মূল স্কোয়াডের বাইরে ভ্রমণকারী রিজার্ভ হিসেবেও রাখা হয়েছে তিন ক্রিকেটারকে। স্পিনার নাঈম হাসান, পেসার মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন দলের সঙ্গে থাকবেন। ফলে মূল দলের কোনো ক্রিকেটার অনুপস্থিত হলে বিকল্প হিসেবে তাদের ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্টটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের প্রথম লাল বলের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাদের বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সূচি নিশ্চিত করেছে। সেখানে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজও রয়েছে। ১৭ থেকে ২৩ অক্টোবর সেই ত্রিদেশীয় সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ টেস্ট ম্যাচের পর বাংলাদেশের সামনে দ্রুতই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ থাকবে। তবে তার আগে শান্তর নেতৃত্বাধীন দলকে দীর্ঘ সংস্করণের ম্যাচটিতে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে হবে।
এই সফরের সময়সূচিও বাংলাদেশের জন্য বেশ ব্যস্ত। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ দল সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবে। এরপর ৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট শুরু হবে এবং ১৩ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা। এর মাত্র কয়েক দিন পর ১৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের ম্যাচ রয়েছে। ফলে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম, প্রস্তুতি ও ফরম্যাট পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দলে একাধিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকায় টেস্টের চাপ সামলানোর পাশাপাশি পরবর্তী সিরিজের জন্য খেলোয়াড়দের প্রস্তুত রাখাও টিম ম্যানেজমেন্টের অন্যতম কাজ হবে। এই ব্যস্ত সূচি সামনে রেখে স্কোয়াডে পর্যাপ্ত বিকল্প রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টকে সামনে রেখে বাংলাদেশের স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা, তারুণ্য, স্পিন ও পেস—সবকিছুর সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। শান্তর নেতৃত্বে মুশফিক, মুমিনুল, লিটন ও মিরাজের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি তরুণদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান প্রত্যাশা থাকবে। বিশেষ করে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের স্থায়িত্ব এবং বোলিং আক্রমণের ধারাবাহিকতা ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। আফগানিস্তানও নিজেদের কন্ডিশন ও সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কারণে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে। ৯ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটিই নির্ধারণ করবে একমাত্র টেস্টে কোন দল নিজেদের পরিকল্পনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে। এরপর দুই দলই ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের দিকে মনোযোগ দেবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
