ব্যালন ডি’অরের আগে মেসির জন্য এলো সুখবর
২০২৬ ব্যালন ডি’অরে মেসিকে জয়ী দেখতে চান ইকুয়েডরের ভোটার
২০২৬ ব্যালন ডি’অরকে ঘিরে ফুটবলবিশ্বে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যেই লিওনেল মেসিকে নিয়ে সামনে এসেছে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ইকুয়েডরের ব্যালন ডি’অর ভোটার প্যাট্রিসিও কর্নেহো গারসেস জানিয়েছেন, মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের জন্য তাঁর ভোট থাকবে মেসির পক্ষে। অর্থাৎ ইকুয়েডরের প্রতিনিধি নিজের ভোটের তালিকায় আর্জেন্টাইন তারকাকে শীর্ষে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ফুটবল অঙ্গনে মেসিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে একজন ভোটারের সিদ্ধান্তকে ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুরস্কারের বিজয়ী নির্ধারণ হবে নির্ধারিত নিয়মে আন্তর্জাতিক ভোটের মাধ্যমে।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর ভোটিং প্রক্রিয়ায় ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের একজন করে সাংবাদিক পুরুষদের পুরস্কারের জন্য ভোট দেন। ইকুয়েডরের হয়ে এই প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধিত্ব করছেন প্যাট্রিসিও কর্নেহো গারসেস। তিনি নিজের পছন্দের তালিকায় মেসিকে প্রথমে রাখার কথা জানিয়েছেন। ব্যালন ডি’অরের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটার ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে নিজের সেরা ১০ খেলোয়াড় নির্বাচন করেন এবং তাদের নির্দিষ্ট ক্রমে সাজান। প্রথম স্থানে থাকা খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট। এরপর দ্বিতীয় থেকে দশম অবস্থানের জন্য যথাক্রমে ১২, ১০, ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট দেওয়া হয়। ফলে গারসেসের ভোট মেসির মোট পয়েন্টে যোগ হবে।
মেসিকে এবারও ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সঙ্গে তালিকায় রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিন ইয়ামাল, হ্যারি কেইন, আর্লিং হালান্ড, জুড বেলিংহাম, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ বিশ্বের আরও বেশ কয়েকজন তারকা। মেসির অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে, কারণ তিনি বর্তমানে ইউরোপের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন। ইউরোপীয় ফুটবলের বাইরে থেকেও তাঁর পারফরম্যান্স ও প্রভাব তাঁকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। এবার ইকুয়েডরের ভোটারের প্রকাশ্য পছন্দ সেই আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ব্যালন ডি’অরের ভোটে শুধু গোল বা অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনা করা হয় না। খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, ম্যাচে তাঁর প্রভাব, দলের সাফল্য এবং জেতা শিরোপার পাশাপাশি মাঠে আচরণ ও ফেয়ার প্লেকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে মেসির ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে পারফরম্যান্সও আলোচনায় এসেছে। ইন্টার মায়ামির হয়ে তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট এবং আক্রমণভাগে প্রভাবের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর ভূমিকা নিয়েও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। এসব বিষয়ই ভোটারদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে।
মেসির ক্যারিয়ারে ব্যালন ডি’অরের সঙ্গে সম্পর্ক ইতোমধ্যে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। তিনি রেকর্ড আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে তাঁর হাতে ওঠে ব্যালন ডি’অর। ২০২৫ সালের পুরস্কার জিতেছেন উসমান দেম্বেলে। এবার মেসি আবারও সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকায় তাঁর সম্ভাব্য নবম পুরস্কার নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিশ্বের বর্তমান প্রজন্মের একাধিক তারকা। ফলে বিভিন্ন দেশের ভোটারদের পছন্দ এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়ের পাওয়া পয়েন্ট চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইকুয়েডরের ভোটার মেসিকে প্রথমে রাখলেও অন্য ভোটারদের সিদ্ধান্ত এখনো সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি।
২০২৬ ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনের লন্ডন প্যালাডিয়ামে। এবার প্যারিসের বাইরে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের মূল অনুষ্ঠান। সেখানে পুরুষদের ব্যালন ডি’অরসহ বিভিন্ন পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। তার আগে বিভিন্ন দেশের ভোটারদের পছন্দ সামনে আসতে পারে এবং তা নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে পারে। ইকুয়েডরের প্রতিনিধি ইতোমধ্যে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন—তাঁর প্রথম ভোট মেসির জন্য। এখন নজর থাকবে বাকি ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত মোট পয়েন্টের হিসাবের দিকে। সেই হিসাবই নির্ধারণ করবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী কে হচ্ছেন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
