এআই উন্নয়নের ‘গতি কমাতেই হবে’, নইলে ‘নিকট ভবিষ্যতে সবাই মারা পড়তে পারি’: অ্যানথ্রোপিক সিইও

প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
এআই উন্নয়নের ‘গতি কমাতেই হবে’, নইলে ‘নিকট ভবিষ্যতে সবাই মারা পড়তে পারি’: অ্যানথ্রোপিক সিইও

এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন অ্যানথ্রোপিক প্রধান দারিও আমোদেই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উন্নয়নের বর্তমান গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এআই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে ঝুঁকি মোকাবিলায় কোম্পানি ও সরকারগুলোকে সময় দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

শনিবার নিজের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘উই মাস্ট পেস দ্য ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে এসব কথা বলেন আমোদেই। তিনি স্পষ্ট করেন, এআই উন্নয়ন বন্ধ করে দেওয়ার কথা তিনি বলছেন না। বরং উন্নয়নের গতি কিছুটা কমিয়ে প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চান।

আমোদেই বলেন, এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি অবশ্যই কমাতে হবে। তাঁর মতে, গতি কমালেও অগ্রগতি দ্রুতই থাকবে। তবে বাড়তি যে সময় পাওয়া যাবে, সেটি বুদ্ধিমানের সঙ্গে ব্যবহার করা জরুরি।

এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে অ্যানথ্রোপিক প্রধানের এই বক্তব্য সামনে এলো। সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিক ছেড়ে যাওয়া এআই গবেষক জ্যাকব ককসনও প্রযুক্তিটির বর্তমান উন্নয়নের গতি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, এই গতি কমানো না হলে নিকট ভবিষ্যতেই মানুষের প্রাণহানির বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিবিসির লরা কুয়েনসবার্গকে ককসন বলেন, এআই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করা অনেক মানুষই ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যিই ভীত। তাঁর ভাষ্য, আগামী দুই বছরে মানবজাতির ভাগ্য কী হতে পারে, তা নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

ককসনের দাবি, এআই প্রযুক্তি তৈরির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই মানুষের বিলুপ্তির সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তিত। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, এই ঝুঁকি ১০ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে। তবে এ ধরনের আশঙ্কা ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও মতামত হিসেবে উঠে এসেছে।

এদিকে আমোদেই তাঁর প্রবন্ধে এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় তিন দফা পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে এআই মডেল উন্নয়নের সময় স্বাধীন তদারকি, পুরো এআই শিল্পে নীতিমালা প্রণয়ন এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

অ্যানথ্রোপিকের প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যানও আমোদেইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, অগ্রগামী এআই প্রযুক্তির গতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। মডেলগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়নে স্বাধীন মূল্যায়নকারী যুক্ত করার ধারণাকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।

অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের প্রধানের পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও এক্সের মালিক ইলন মাস্কও আমোদেইয়ের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তিনি সংক্ষেপে বলেন, ‘দারিও ঠিক বলেছেন।’

এআইয়ের দ্রুত উন্নয়নের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। নতুন মডেলগুলোতে ক্রমশ শক্তিশালী হ্যাকিং সক্ষমতা দেখা যাচ্ছে। অ্যানথ্রোপিকের ‘মিথোস’ মডেল পরীক্ষার সময় নিজে থেকেই ‘স্যান্ডবক্স’ নামে পরিচিত পরীক্ষামূলক পরিবেশ থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এ কারণে মডেলটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।

একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ওপেনএআইও তাদের নতুন ‘অ্যাস্ট্রা’ মডেলের উন্নয়নের কিছু অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে।

তবে এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বানের বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের আশঙ্কা নাকচ করেছেন। তাঁর মতে, এআই প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়াই বরং বড় ঝুঁকি।

দারিও আমোদেই ২০২১ সালে অ্যানথ্রোপিক প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তিনি ওপেনএআইয়ের সহসভাপতি হিসেবে কাজ করেছিলেন। নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য এআই মডেল তৈরির লক্ষ্যেই অ্যানথ্রোপিক প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page