বিবিধ সায়রাত মহাল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা
বিবিধ সায়রাত মহাল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৬
বিবিধ সায়রাত মহাল সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও ইজারা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। ‘বিবিধ সায়রাত মহাল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ নামে এ নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়। এতে বিবিধ সায়রাত মহালের সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও সরকারের ওপর ন্যস্ত বিভিন্ন ধরনের সম্পদ থেকে আয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। হাট, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, ফেরিঘাট, লবণ মহাল, চিংড়ি মহাল ও পাথর মহাল ছাড়া অন্যান্য সায়রাত মহালের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।
নীতিমালায় ‘ইজারা’ বলতে সরকারের নির্দিষ্ট মালিকানাধীন ও খাস সম্পদ নির্ধারিত শর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘ইজারাদার’ বলতে নীতিমালার অধীন কোনো বিবিধ সায়রাত মহাল ইজারা গ্রহণকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে।
এতে বিভিন্ন ধরনের বিবিধ সায়রাত মহালের সংজ্ঞাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কাঠ মহাল, খড় বা ঘাস মহাল, ধান মহাল, মাটি বা মৃৎ মহাল, বাঁশ বা বাগান মহাল, শাল মহাল এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক মহাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কাঠ মহাল বলতে কাঠ বা কাঠজাতীয় পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত স্থানকে বোঝানো হয়েছে। একইভাবে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ঘাস বা ইম্পেরাটা সিলিন্ড্রিকা-জাতীয় ঘাসের জন্য নির্ধারিত এলাকাকেও নির্দিষ্ট শ্রেণির মহাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালায় বিবিধ সায়রাত মহালের সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব মহালের তথ্য নিবন্ধন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সায়রাত মহালের শ্রেণি ও আয়তন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার নির্দেশনা রয়েছে।
ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত শর্ত অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। কোনো সায়রাত মহালের আয়তন সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে ইজারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সীমা নির্ধারণ করতে পারবে। পাশাপাশি কোনো বিবিধ সায়রাত মহালের এলাকায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ বা অব্যবহারের জন্য অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হলে তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সরকারের নতুন এই নীতিমালার ফলে বিবিধ সায়রাত মহালের তালিকা, শ্রেণি, আয়তন, সংরক্ষণ ও ইজারা ব্যবস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হলো। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি এসব সম্পদের ইজারা গ্রহণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্যও নীতিমালাটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
