নওগাঁয় ৭২ অ্যাম্পল ইনজেকশনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
নওগাঁয় ৭২ অ্যাম্পল ইনজেকশনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নওগাঁয় ৭২ পিস অ্যাম্পল ইনজেকশনসহ ব্যক্তি গ্রেপ্তার

নওগাঁ সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৭২ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য হিসেবে উল্লেখ করা অ্যাম্পল ইনজেকশনসহ মো. ইসতিয়াক নেওয়াজ (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

নওগাঁ সদর থানার মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চকদেব এলাকার সরিষা হাটির মোড়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৭২ পিস অ্যাম্পল ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার মো. ইসতিয়াক নেওয়াজ নওগাঁ সদর উপজেলার চকদেব (সরিষা হাটির মোড়) এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম নবী নেওয়াজ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় চকদেব এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ইসতিয়াক নেওয়াজের কাছে থাকা ৭২ পিস অ্যাম্পল ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়। উদ্ধার করা ইনজেকশনগুলো কী ধরনের এবং কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ইনজেকশনজাতীয় ওষুধ বা পদার্থের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে কোনো ওষুধ বা ইনজেকশন মাদক হিসেবে অপব্যবহার করা হলে তা ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মাদক হিসেবে ইনজেকশনের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে দ্রুত আসক্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি থাকে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে ইনজেকশন ব্যবহারের ফলে সংক্রমণসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ও অনুমোদিত ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ইনজেকশনজাতীয় ওষুধ বা কোনো মাদকদ্রব্য ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা ও ব্যবহার বন্ধে নওগাঁ সদর থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

এদিকে গ্রেপ্তার ইসতিয়াক নেওয়াজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার করা ৭২ পিস অ্যাম্পল ইনজেকশনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ হেফাজত, কেনাবেচা ও ব্যবহার রোধে তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

নোট: অ্যাম্পল ইনজেকশনকে মাদকদ্রব্য হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। ইনজেকশনগুলোর নির্দিষ্ট ওষুধের নাম বা উপাদান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে কোনো নির্দিষ্ট মাদক হিসেবে দাবি করা হয়নি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page