মাত্র ৩ টাকা জরিমানার জন্য ট্রান্সক্রিপ্ট আটকে গেল মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীর

প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মাত্র ৩ টাকা জরিমানার জন্য ট্রান্সক্রিপ্ট আটকে গেল মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীর

মাত্র ৩ টাকা জরিমানার কারণে আটকে যায় শিক্ষার্থীর ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী মাত্র ৩ টাকা বকেয়া বা জরিমানা পরিশোধ না করায় ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে থাকা এই সামান্য বকেয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন হচ্ছিল না। পরে ব্যাংকে ৩ টাকা জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দপ্তর থেকে ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীও প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ক্লিয়ারেন্স ফরম নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে স্বাক্ষর নিতে যান। এ সময় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের হিসাব যাচাইয়ের পর্যায়ে তার নামে ৩ টাকা বকেয়া বা জরিমানা রয়েছে বলে জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থীর লাইব্রেরি-সংক্রান্ত বকেয়া হিসেবে ৩ টাকা জরিমানার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সামান্য এই অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে ট্রান্সক্রিপ্ট সার্টিফিকেট উত্তোলনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াতেও জটিলতা তৈরি হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, ২০২২ সালের দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে পড়ার জন্য একটি বই নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের তিন দিন পর বইটি ফেরত দেওয়ায় তার নামে ৩ টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে লাইব্রেরি থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে গিয়ে তিনি ওই জরিমানার বিষয়টি জানতে পারেন।

তিনি বলেন, মাত্র ৩ টাকা জরিমানা থাকায় বিষয়টি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হলেও নিয়ম অনুযায়ী সেটি পরিশোধ করতেই হয়েছে। ওই অর্থ জমা দেওয়ার জন্য তাকে ব্যাংকে যেতে হয় এবং টাকা জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করতে হয়। পরে সেই রশিদ দেখানোর পর সংশ্লিষ্ট ক্লিয়ারেন্সের স্বাক্ষর পাওয়া যায়।

শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, সামান্য ৩ টাকা জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকে গিয়ে তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এত অল্প পরিমাণ অর্থের জন্য আলাদাভাবে ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি তার কাছে লজ্জাজনক ও অস্বস্তিকর মনে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, ডিজিটাল যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাপ্তরিক ও আর্থিক কার্যক্রম যখন ধীরে ধীরে প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে, তখন মাত্র ৩ টাকা জরিমানা পরিশোধের জন্য একটি শিক্ষার্থীর ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ার বিষয়টি ব্যতিক্রমী। তাদের মতে, এ ধরনের ক্ষুদ্র পরিমাণ বকেয়া নিষ্পত্তির জন্য আরও সহজ ও ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষার্থীদের সময় ও ভোগান্তি কমতে পারে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ব্যবস্থায় হিসাবের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিক্ষার্থীর নামে বকেয়া বা জরিমানা থাকলে তা নিষ্পত্তির পর ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়। ফলে অর্থের পরিমাণ অল্প হলেও হিসাবের নিয়ম অনুযায়ী তা পরিশোধের প্রয়োজন পড়ে।

শেষ পর্যন্ত ব্যাংকে নির্ধারিত ৩ টাকা জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করেন ওই শিক্ষার্থী। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং ট্রান্সক্রিপ্ট সার্টিফিকেট উত্তোলনের পথে তৈরি হওয়া জটিলতারও অবসান ঘটে।

ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল আলোচনা তৈরি হয়েছে মাত্র ৩ টাকা জরিমানার পরিমাণ নিয়ে নয়, বরং এত অল্প পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য বিদ্যমান প্রক্রিয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে যে অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটি নিয়ে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনায় ক্ষুদ্র অঙ্কের বকেয়া নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page