বিশ্বকাপের পর এবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ! বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে চায় নেপাল

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপের পর এবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ! বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে চায় নেপাল

দুই বিশ্বকাপ লড়াইয়ের পর এবার সিরিজের প্রস্তাব

বাংলাদেশ ও নেপালের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে। নেপালের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব দেওয়ার কথা উঠে এসেছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও নেপাল পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি। দুই দল মাত্র দুবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে। দুই সাক্ষাৎই হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে। ফলে এবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন করা সম্ভব হলে দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সেটি হবে ভিন্ন ধরনের আকর্ষণের বিষয়।

বাংলাদেশ ও নেপালের প্রথম টি-টোয়েন্টি সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর দুই দল আবার মুখোমুখি হয় ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে দুই দলের মধ্যে মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হলেও নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তাদের দেখা যায়নি। এ কারণেই নেপালের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রস্তাবের বিষয়টি সামনে আসায় ক্রিকেটাঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নেপাল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। দেশটির ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি সংস্করণ বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নেপালের জাতীয় দলও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো একটি প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট দলের বিপক্ষে নিয়মিত সিরিজ খেলতে পারলে নেপালের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা যেমন বাড়বে, তেমনি দলটির আন্তর্জাতিক প্রস্তুতিও আরও শক্তিশালী হতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্যও নেপালের বিপক্ষে একটি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ বিভিন্ন দিক থেকে কার্যকর হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এমন সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির সময় নিয়মিত ম্যাচ খেলা একটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নেপালের বিপক্ষে সিরিজ হলে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট বেঞ্চের শক্তি যাচাই করার সুযোগও পেতে পারে।

দুই দলের ক্রিকেটীয় ইতিহাস খুব দীর্ঘ না হলেও তাদের মধ্যকার ম্যাচগুলোতে দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও নেপালকে নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের বাইরের কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজে এখনো নিয়মিতভাবে দুই দলকে দেখা যায়নি। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবে রূপ নিলে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে শুধু প্রস্তাব সামনে আসার অর্থ এই নয় যে সিরিজটি চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়ে গেছে। সিরিজ আয়োজন করতে হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নেপাল ক্রিকেটের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা, সূচি নির্ধারণ এবং অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে। ম্যাচের সংখ্যা, আয়োজনের সময়, ভেন্যু এবং কোন দেশে সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে—এসব বিষয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ ও নেপাল যদি ভবিষ্যতে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট আয়োজনের দিকে এগিয়ে যায়, তাহলে সেটি দুই দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নেপালের মতো উদীয়মান ক্রিকেট দলের জন্য বাংলাদেশের মতো অভিজ্ঞ দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলা আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশও তুলনামূলক নতুন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের দল ও কৌশল পরীক্ষা করার সুযোগ পাবে।

সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে বাংলাদেশ-নেপাল টি-টোয়েন্টি সিরিজ দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক আলোচনায় কতটা এগোয় এবং ভবিষ্যতে দুই দল বিশ্বকাপের বাইরেও নিয়মিত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একে অপরের মুখোমুখি হয় কি না।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page