শনিবার থেকে বেকারি পণ্যের দাম কত শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে?

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
শনিবার থেকে বেকারি পণ্যের দাম কত শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে?

১২ সেপ্টেম্বর থেকে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা

কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশের সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা ব্যবসায়ীদের জন্য আর সম্ভব হচ্ছে না।

বেকারি ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও চিনি—এই চারটি প্রধান কাঁচামালের দাম গত এক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে খোলা ও প্যাকেটজাত চিনির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সময়ে আটা ও ময়দার দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

কাঁচামালের এই বাড়তি দামের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় অনেক বেকারি কারখানাকে দিনের দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে কারখানা সচল রাখার নির্ধারিত খরচও কমছে না।

বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বেকারি উদ্যোক্তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি নিয়মিত কর্মীদের বেতন-ভাতা, কারখানা পরিচালনা এবং অন্যান্য খরচ বহন করতে হচ্ছে তাদের। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগের দামে পণ্য বিক্রি করলে লোকসান আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি বেকারি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

তিনি জানান, ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এবং ক্রমাগত লোকসান সামাল দেওয়ার জন্যই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বর্ধিত দামে বেকারি পণ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কত শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়বে, তা পণ্যের ধরন ও উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে বলে সংগঠনটির ঘোষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বেকারি শিল্পে উৎপাদনের জন্য আটা, ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো কাঁচামাল অপরিহার্য। এসব পণ্যের দাম একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। এর সঙ্গে জ্বালানি সংকট যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন করা না গেলে বেকারি কারখানাগুলোকে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালাতে হয়। আবার দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলেও শ্রমিক ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় অব্যাহত থাকে। ফলে উৎপাদন খরচের ভার ব্যবসায়ীদের ওপর আরও বাড়ছে।

এ অবস্থায় আগামী শনিবার থেকে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রস্তুতকারকদের সংগঠনটি। ফলে বাজারে বিস্কুট, পাউরুটি, কেকসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়তে পারে। তবে কোন পণ্যের দাম কত বাড়বে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তালিকা বা পৃথক মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।

মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সরকারের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করে বলেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়া গেলে এ খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকেই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন না। তার আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বেকারি শিল্পের ছোট উদ্যোক্তাদের বড় একটি অংশ ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারেন।

ব্যবসায়ীদের এ সিদ্ধান্তের ফলে বেকারি পণ্যের নিয়মিত ক্রেতাদের ওপরও বাড়তি ব্যয়ের চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রতিদিনের নাশতা ও খাবারের অংশ হিসেবে পাউরুটি, বিস্কুট ও অন্যান্য বেকারি পণ্য কেনেন এমন ভোক্তাদের জন্য নতুন দাম বাড়তি ব্যয়ের কারণ হতে পারে।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমান উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয় না করলে তাদের পক্ষে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কাঁচামালের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের বেকারি পণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়বে। কাঁচামালের দাম ও জ্বালানি সংকটের কারণে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page