আট বছর ধরে বেহাল মোংলা–গাববুনিয়া সড়ক, দুর্ভোগে স্কুলশিশুরা
সংস্কারের অভাবে গর্তে ভরা মোংলার চিলা-গাববুনিয়া সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা বাজার থেকে গাববুনিয়া জোড়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার পিচের সড়ক দীর্ঘ আট বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গেছে। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো অনেক সময় চোখে দেখা যায় না। ফলে যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
সড়কের দুই পাশে প্রায় হাজারো পরিবারের বসবাস। স্থানীয়দের হিসাবে, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মানুষ চলাচল করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু ও শিক্ষার্থী রয়েছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে সড়কটি বেহাল থাকায় স্কুল, বাজার ও চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহিদুল শেখ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এই অবস্থা। আট বছর ধরে আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। একটু বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে যায়। তখন কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত বোঝার উপায় থাকে না। যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা দরকার।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল শেখ বলেন, “এই রাস্তা আমাদের প্রতিদিনের চলাচলের প্রধান পথ। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি খারাপ হয়ে পড়ে আছে। অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বর্ষার সময় শিশুদের স্কুলে পাঠানোও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত কাজ শুরু করা হোক।”
স্কুলগামী শিক্ষার্থী শান্তা খানম জানায়, “বৃষ্টির দিনে রাস্তার গর্তে পানি জমে যায়। তখন হেঁটে স্কুলে যেতে অনেক সমস্যা হয়। অনেক সময় পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। রাস্তা ভালো হলে আমাদের স্কুলে যাতায়াত অনেক সহজ ও নিরাপদ হবে।”
এদিকে শুধু সড়ক নয়, চিলা বাজারের রিং বেড়িবাঁধও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা এ এলাকায় সড়ক ও বেড়িবাঁধের দুরবস্থায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে।
সড়ক ও রিং বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবিতে মোংলা উপজেলা জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক শিশু ফোরামের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ আগস্ট সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও উপজেলা প্রকৌশলী। তাঁরা সড়কের বিভিন্ন অংশ ও রিং বেড়িবাঁধের অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি সড়ক ও রিং বেড়িবাঁধের সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘ আট বছর ধরে পড়ে থাকা সড়কটির বেহাল দশা কাটাতে প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। দ্রুত সংস্কার করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্কুলগামী শিশু, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল আরও নিরাপদ হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
