দেশে সাক্ষরতার হার কত জানালেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
দেশে সাক্ষরতার হার কত জানালেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী এ অগ্রগতি দেশের সাক্ষরতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

আগামীকাল ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সাক্ষরতার হার ৭৭ শতাংশের বেশি পৌঁছানো আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হলেও এখনো দেশের একটি বড় অংশ শিক্ষার মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বাইরে রয়েছে। বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু, ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং অনগ্রসর প্রাপ্তবয়স্কদের দ্রুত সাক্ষর ও দক্ষ করে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সাক্ষরতা শুধু নাম লেখা বা বর্ণমালা চেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইউনেস্কোর এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘লিটারেসি ফর পিপল, দ্য প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রসপারিটি’ সামনে রেখে সাক্ষরতাকে কর্মসংস্থান, জীবনদক্ষতা, ডিজিটাল সক্ষমতা ও পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের (বিএনকিউএফ) মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

এদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন বা ৯২ দশমিক ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী সরাসরি স্থায়ী চাকরি, শোভন কাজে শিক্ষানবীশ অথবা নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মানুষকে স্বাবলম্বী করা এবং দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার লক্ষ্যে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা)’ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ মডেলের আলোকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, একটি সাক্ষর, প্রযুক্তি-সচেতন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনোয়ারা ইশরাত, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page