বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ব্যালন ডি’অরের অপেক্ষায় এমবাপ্পে
বিশ্বকাপের ইতিহাসের পর ব্যালন ডি’অর চান এমবাপ্পে
রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার নিয়ে নিজের মনোভাব প্রকাশ করেছেন। সোমবার আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পে জানান, চলতি বছরটি তাঁর জন্য প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতার একটি ভালো সুযোগ হতে পারে। উল্লেখ্য, এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের ঘোষণা অনুষ্ঠান আগামী ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, আর তার আগেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এমবাপ্পে বলেন, এই গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তিনি ইতিহাস গড়েছেন, তবে এখনও অনেক পথ বাকি আছে। তাঁর ভাষায়, “আমি এই গ্রীষ্মে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় ইতিহাস তৈরি করেছি, তবে এখনও অনেক সময় বাকি।” তিনি আরও বলেন, এই বছরটি ব্যালন ডি’অরের জন্য ভালো একটি বছর হতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সাংবাদিকরা, যারা ভোট দিয়ে বিজয়ী নির্ধারণ করেন। তিনি নিজে শুধু নিজের সেরাটা দেওয়ার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন বলে জানান।
এই মন্তব্যের পেছনে কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ২০২৬ বিশ্বকাপে এমবাপ্পের অসাধারণ পারফরম্যান্স। তিনি এই আসরে ১০টি গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন, এবং এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার (সব মিলিয়ে ২২ গোল, মাত্র ২২ ম্যাচে) রেকর্ডও গড়েছেন। এছাড়া তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুইবার (২০২২ ও ২০২৬) বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তবে এত ভালো ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও ফ্রান্স এবার বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থানে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করেছে, যা তাঁর দাবিকে কিছুটা দুর্বল করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।
ক্লাব ফুটবলের দিক থেকেও এমবাপ্পের মৌসুমটি ছিল গোলের বিচারে দুর্দান্ত। গত ২০২৫-২৬ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪ ম্যাচে তিনি ৪২টি গোল করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে রিয়াল মাদ্রিদ সেই মৌসুমে কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি, যা ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তাঁর পক্ষে একটি নেতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ সাধারণত দেখা যায়, দলগত সাফল্য না থাকলে ভোটাররা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে কম গুরুত্ব দেন।
এমবাপ্পে সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বসেরা ক্লাবে খেললে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই দলগত ও ব্যক্তিগত সম্মাননার সঙ্গে তাঁর নাম জুড়ে দেয়। তিনি বলেন, রাস্তায় অনেকেই তাঁর সঙ্গে ব্যালন ডি’অর নিয়ে কথা বলেন এবং তাঁকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই এমন আলোচনা একটি ইতিবাচক বিষয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত বছরের ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন উসমান দেম্বেলে, এবং তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন তা অনুমান করা এবারও বেশ কঠিন বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই প্রতিযোগিতা এবার বেশ কঠিন হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে, এবং এমবাপ্পে নিজেও মনে করেন এই প্রতিযোগিতা তাঁর পক্ষে যেতে পারে।
এছাড়া, মৌসুমের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদের পারফরম্যান্স নিয়েও কিছুটা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা দলের ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা করছেন, বিশেষ করে এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে দেম্বেলের কর্মক্ষমতার তুলনা করা হচ্ছে। তবে এসব আলোচনার মধ্যেও এমবাপ্পে নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্যের প্রতি দৃঢ়সংকল্প রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
সবমিলিয়ে, এমবাপ্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে তিনি নিজের সাফল্য সম্পর্কে সচেতন হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিনয়ী মনোভাব বজায় রেখেছেন। আগামী ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অনুষ্ঠানেই জানা যাবে সাংবাদিকদের ভোটে শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
