ভিডিও ভাইরালকে কেন্দ্র করে মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ
ভিডিও ভাইরালকে কেন্দ্র করে মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির উদ্যোগে সিপিএস (ক্রাইমোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স) ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করা হয়। বৈঠক রাত ২টার পর পর্যন্ত চলে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে মাভাবিপ্রবির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান মারুফ নামের এক শিক্ষার্থী।
এ সময় তিনি ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনার পরদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিপিএস বিভাগের প্রতিনিধি, সাংবাদিক প্রতিনিধি ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ আলোচনার পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে লিখিত সমঝোতা হয়। তবে কয়েকদিন পর বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
পরে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে ইসতিয়াক নামের এক শিক্ষার্থী রয়েছেন। তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
আহত শিক্ষার্থীর খোঁজ নিয়েছে প্রশাসন
সংঘর্ষের পর আহত শিক্ষার্থী ইসতিয়াকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে তার আবাসিক হলের কক্ষে যান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এ সময় তারা তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
রাতভর বৈঠকে প্রশাসন
সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির উদ্যোগে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি পরিচালক, বিএনসিসি পরিচালক, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, প্রক্টর এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সংঘর্ষের কারণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে আবারও উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
