‘শরিয়া আইনে বিক্ষোভের অনুমতি নেই’ বলে আফগানিস্তানে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ

প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
‘শরিয়া আইনে বিক্ষোভের অনুমতি নেই’ বলে আফগানিস্তানে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ

আফগানিস্তানে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ

আফগানিস্তানে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তালেবান সরকার। দেশটির সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্ত ইসলামী আইন বা শরিয়া ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিক্ষোভ নিষিদ্ধের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর দেশটিকে ইসলামী বা শরিয়া আইনের ভিত্তিতে পরিচালনার ঘোষণা দেয় তারা।

গত কয়েক বছরে আফগানিস্তানে বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা খুব বেশি দেখা যায়নি। এর মধ্যেই গত মাসে দেশটির সরকার নতুন একটি বিধান জারি করে, যেখানে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়।

বিক্ষোভ নিষিদ্ধের পক্ষে তালেবানের যুক্তি

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় বিক্ষোভের কোনো স্থান নেই।

তিনি বলেন, বিক্ষোভ সাধারণত এমন সমাজে দেখা যায়, যেখানে ভিন্ন ধরনের আইন ও শাসন ব্যবস্থা কার্যকর থাকে। এ ক্ষেত্রে তিনি গণতন্ত্র ও প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেন।

মুজাহিদের দাবি, ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ না করেও সরকারের কাছে নিজেদের অভিযোগ, সমস্যা ও উদ্বেগ জানাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে মানুষের সময় অপচয় কমবে এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিও এড়ানো সম্ভব হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা

তালেবানের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত মাসের শেষ দিকে নতুন এই বিধানের সমালোচনা করে জানায়, এটি ভিন্নমত দমনে তালেবানের কঠোর অবস্থানের আরেকটি উদাহরণ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও আফগানিস্তানে তালেবানের সাম্প্রতিক আইন প্রয়োগ ও নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিক্ষোভ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে তালেবানের নেওয়া অন্যতম গুরুতর বিধানগুলোর একটি বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

নারী অধিকার বিক্ষোভে সহিংসতার অভিযোগ

আফগানিস্তানে বিক্ষোভের সংখ্যা কম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নারী অধিকারকর্মীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।

জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে নারী অধিকার নিয়ে একটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

তালেবান সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আফগানিস্তানে নাগরিকদের প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের সুযোগ আরও সীমিত হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: এএফপি

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page