শেষ হলো মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় কিংবদন্তির

প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
শেষ হলো মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় কিংবদন্তির

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় কিংবদন্তির

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে লিওনেল মেসির দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ৩৯ বছর বয়সী মেসি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময়ের চিন্তাভাবনার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন যে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। ফলে ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাকে আর মাঠে দেখা যাবে না।

মেসির এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য ম্যাচ খেলেছেন এবং আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় দলের হয়ে তার ম্যাচ সংখ্যা ২০৭ এবং গোল ১২৫।

তবে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল সাফল্যের চেয়ে হতাশায় বেশি ভরা। একাধিক বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে দীর্ঘদিন সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই গল্প পুরোপুরি বদলে যায়। ২০২১ কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের স্বাদ পান মেসি। এরপর ২০২২ সালের ফাইনালিসিমা এবং একই বছর কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার পূর্ণতা পায়।

বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপ জয় মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স তাকে আবারও ফুটবল বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব দেন তিনি। তবে এবার ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পরই মেসি নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন। পরে তিনি জানান, ফাইনালের দুই দিন পরই অবসরের বার্তা লিখে রেখেছিলেন। তবে সেটি প্রকাশ করতে সময় নিয়েছেন। তার বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুও এই সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিদায়ী বার্তায় মেসি আর্জেন্টিনার জার্সির প্রতি নিজের ভালোবাসা এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে জাতীয় দলে উঠে আসা তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি মনে করছেন এখন নতুন প্রজন্মের হাতে আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।

মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি শুধু একটি খেলোয়াড়ের বিদায় নয়; এটি আর্জেন্টিনা ফুটবলের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের শেষ। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমাসহ একাধিক বড় অর্জনের মাধ্যমে তিনি জাতীয় দলের ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ী করে গেছেন।

তবে মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার এখানেই শেষ হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও তিনি ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে মাঠে মেসিকে দেখার সুযোগ থাকছে, কিন্তু আর্জেন্টিনার বিখ্যাত নীল-সাদা জার্সিতে তার সেই পরিচিত উপস্থিতি আর দেখা যাবে না।একটি প্রজন্মের আবেগ, অসংখ্য স্মৃতি এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া সাফল্য—সবকিছু সঙ্গে নিয়েই আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের ইতি টানলেন লিওনেল মেসি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page