১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ পারেদেস,গ্যাভির শাস্তি নিয়ে তুললেন প্রশ্ন

প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ পারেদেস,গ্যাভির শাস্তি নিয়ে তুললেন প্রশ্ন

গ্যাভির শাস্তি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন পারেদেস

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে হারের পর মাঠের মধ্যেই ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত ঘটনার জেরে ফিফার দেওয়া শাস্তি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানালেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনালে আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে চাপে ছিল এবং গোলের তেমন সুযোগও তৈরি করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে হার মানতে হয় তাদের, আর ম্যাচেই এনজো ফের্নান্দেজ লাল কার্ড দেখেন। খেলা শেষ হওয়ার পরপরই এই তীব্র হতাশা থেকেই মাঠে জন্ম নেয় এক তুমুল হাতাহাতির ঘটনা।

সেই হাতাহাতিতে পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন এবং স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গ্যাভিকে মাটিতে ফেলে দেন। একই সময়ে আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মলিনা ও থিয়াগো আলমাদা, এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও এই বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়েন, আয়ালা স্পেনের দানি ওলমোর দিকেও তেড়ে যান। প্রায় এক মাস পর, গত ২১ আগস্ট ফিফা তাদের শাস্তির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। পারেদেসকে দেওয়া হয় দশ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা, যা তীব্রতার বিচারে ২০১৪ সালে উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজের প্রতি নেওয়া ব্যবস্থার সমতুল্য এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠোর শাস্তিগুলোর একটি বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এই নিষেধাজ্ঞা কার্যত পারেদেসকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরের জন্য আর্জেন্টিনা দল থেকে দূরে রাখার শামিল, কারণ ফিফার নির্ধারিত সূচিতে ওই সময়ের মধ্যে দলটির দশটি ম্যাচ রয়েছে। এছাড়া নাহুয়েল মলিনাকে সাত ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, পাশাপাশি পারেদেস ও মলিনাকে ৯০ হাজার ডলার করে জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে স্পেনের একমাত্র শাস্তিপ্রাপ্ত খেলোয়াড় গ্যাভিকে দেওয়া হয় মাত্র এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।

এই বৈষম্যপূর্ণ শাস্তিই ক্ষুব্ধ করে তুলেছে পারেদেসকে। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে লানুসের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে লা বোম্বোনেরায় সাংবাদিকদের সামনে তিনি সরাসরি নিজের শাস্তিকে অতিরঞ্জিত বলে আখ্যা দেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এটি কমানো হবে। তিনি নিজের শাস্তিকে সরাসরি গ্যাভির শাস্তির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো গ্যাভিই তাকে বুকে আঘাত করেছিলেন, অথচ তিনি পেয়েছেন মাত্র এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। প্রসঙ্গত, ঘটনার ঠিক পরপরই গ্যাভি নিজেও জানিয়েছিলেন যে তিনি পারেদেসের শাস্তির পক্ষে নন এবং এটিকে ঘুষির চেয়ে বেশি একটা ধাক্কা বলে বর্ণনা করেছিলেন।

এদিকে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এই দীর্ঘ শাস্তি ও জরিমানার বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আপিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং প্রয়োজনে পরবর্তীতে ক্রীড়া সালিশি আদালত ক্যাস-এও যাওয়ার কথা ভাবছে। ইতিমধ্যেই ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এএফএ-র একটি অনুরোধ অনুমোদন করেছে, যার ফলে পারেদেস ও মলিনার নিষেধাজ্ঞা এখন থেকে প্রীতি ম্যাচেও কার্যকর ধরা হবে, যা তাদের শাস্তির প্রকৃত প্রভাব বেশ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও এএফএ এখনো বিষয়টি চূড়ান্ত বলে মেনে নেয়নি এবং ফিফার কাছ থেকে লিখিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ কারণ হাতে পাওয়ার পর পূর্ণ আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ ফাইনাল-পরবর্তী এই বিতর্কিত ঘটনা এখনো ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পারেদেসের প্রকাশ্য অসন্তোষ প্রমাণ করে দেয়, শাস্তির ভারসাম্যহীনতা নিয়ে প্রশ্ন এখনো থামেনি, বরং সময়ের সাথে সাথে তা আরও জোরালো হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page