বিশ্বকাপে মেসিকে হত্যার ছক,রোনালদোর নিরাপত্তা নিয়েও ছিল শঙ্কা

reporter
Remon
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপে মেসিকে হত্যার ছক,রোনালদোর নিরাপত্তা নিয়েও ছিল শঙ্কা

মেসিকে ঘিরে হত্যার ষড়যন্ত্র, রোনালদোর নিরাপত্তায় উদ্বেগ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন বিশ্বের দুই সেরা তারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে একাধিক গুরুতর হুমকির তথ্য একটি ফাঁস হওয়া পুলিশ দলিলে উঠে এসেছে। এতে মেসিকে টার্গেট করে আত্মঘাতী বোমা হামলার হুমকি, বোমা রাখার মিথ্যা দাবি এবং সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি রয়েছে। অন্যদিকে ক্রিস্টিয়ানোর ক্ষেত্রে তার থাকার জায়গা সম্পর্কে সন্দেহজনক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা এবং হোটেলে অনুপ্রবেশের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দলিলের কোনো তথ্যই এখনো স্বাধীনভাবে বা সরকারিভাবে যাচাই করা হয়নি — পুরো প্রতিবেদনটি নির্ভর করছে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ নথির ওপর।

এই দলিলটি তৈরি করেছে এফবিআই এবং সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কো-অপারেশন (আইপিসিসি)-এর নেতৃত্বাধীন একটি যৌথ নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক। খবরটি সর্বপ্রথম প্রকাশ করে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম Informacion.es, এরপর ব্রিটিশ পত্রিকা The Sun এই তথ্যের বিস্তারিত প্রতিবেদন করে, যা পরে IBTimes UK ও Goal.com-সহ আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করে। মূল দুই লক্ষ্যবস্তু ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এছাড়া ফরাসি রেফারি ফ্রঁসোয়া লেতেক্সিয়েও আলাদাভাবে হুমকির শিকার হন।

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালীন এই ঘটনাগুলো ঘটে, যা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মেসির বিরুদ্ধে একটি হুমকি আসে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের আগে, আরেকটি আসে ৭ জুলাই আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের সময়। পুরো দলিলটি ফাঁস হয় সম্প্রতি, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার (স্পেন ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার) পর।

হুমকিগুলোর মূল কেন্দ্রস্থল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দুটি শহর — ডালাস ও আটলান্টা। ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে হুমকি দেন যে তিনি ও আরও দুজন হাতে তৈরি বোমা ও একটি রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামে হামলা চালাবেন এবং পুলিশ ও উভয় দলের খেলোয়াড়দের ওপর আক্রমণ করবেন, বিশেষভাবে মেসির নাম উল্লেখ করে। অন্যদিকে আটলান্টা স্টেডিয়ামে একজন ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে জানান, তিনি শরীরে চারটি বোমা বেঁধে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে মেসিকে লক্ষ্য করে নিজেকে উড়িয়ে দেবেন। ক্রিস্টিয়ানোর ক্ষেত্রে হুমকি আসে তার হোটেলকে ঘিরে, যেখানে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানতে চান।

এই দলিল প্রমাণ করে, বিশ্বকাপের মতো বিশাল আসরে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা কতটা স্পর্শকাতর বিষয় হতে পারে। মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো — দুজনেই ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অনুসরণকারী ও পরিচিত মুখ হওয়ায় তারাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। যদিও কোনো প্রকৃত বোমা পাওয়া যায়নি এবং সরাসরি হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো গ্রেপ্তারের খবরও নেই, তবু নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রতিটি হুমকি সমান গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হয়েছে, যা সাধারণ দর্শকদের অগোচরেই চলছিল।

প্রতিটি হুমকি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আটলান্টা স্টেডিয়ামে বোমার হুমকির পর সশস্ত্র পুলিশ, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞ ও স্নিফার কুকুর মোতায়েন করে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়, তবে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। ক্রিস্টিয়ানোর ক্ষেত্রেও একই রকম সতর্কতা নেওয়া হয় — সন্দেহজনক ব্যক্তির তথ্য জানার চেষ্টার খবর পেয়ে ফিফার এক কর্মী তা পুলিশকে জানান। এছাড়া এক ভক্ত ক্রিস্টিয়ানোর হোটেলে ঢুকে তার সঙ্গে লিফটে ওঠার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে আটক করে, যদিও পরে সে দাবি করে সে শুধু সেলফি তুলতে চেয়েছিল। রেফারি লেতেক্সিয়ে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের সিদ্ধান্তের জেরে ৬,০০০-এরও বেশি হুমকিমূলক বার্তাও পান।

এই পুরো প্রতিবেদনটি একটি ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ দলিলের ভিত্তিতে তৈরি, যা এখনো এফবিআই বা কোনো সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি

তথ্যসূত্র : Informacion.es, The Sun

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page