গ্যাসের দাম বাড়ালে জনগণ রাজপথে নামবে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

reporter
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ
গ্যাসের দাম বাড়ালে জনগণ রাজপথে নামবে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম।

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েক দফায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে এবং আবাসিক খাতেও গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এনসিপির কর্মী আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন আলিফ চৌধুরী।

নাহিদ ইসলাম বলেন, পেট্রোবাংলা গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার কয়েক দফায় জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। এখন যদি আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হবে। তিনি দাবি করেন, অনেক এলাকায় মানুষ নিয়মিত গ্যাস না পেলেও নির্ধারিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প খাতে গ্যাসের দাম বাড়লে তার প্রভাব সার্বিক অর্থনীতিতে পড়বে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠছে। সরকার যদি এসব সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তাহলে জনগণ রাজপথে নেমে আসবে। সরকারের নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র জনমত তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইলে সরকারকে কঠোর দমন-পীড়নের পথ বেছে নিতে হবে। তবে সেই পরিস্থিতি জনগণ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার জন্য ইতিবাচক নয়।

প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের নেতৃত্বের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং তা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে।

হবিগঞ্জে আহত আলিফ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁর একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য চোখেও আঘাতের প্রভাব রয়েছে। চিকিৎসকেরা এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না। চিকিৎসক বোর্ডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান।

আলিফের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান সাংগঠনিক বা আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। গণতান্ত্রিক পরিবেশে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না হলে আইনের শাসন আরও দুর্বল হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, নাহিদ ইসলামের এসব বক্তব্য সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযোগ ও সমালোচনার অংশ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্তদের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন