ওষুধের গবেষণা ও উৎপাদনে খরচ কমাতে দেশে হচ্ছে কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
ওষুধের গবেষণা ও উৎপাদনে খরচ কমাতে দেশে হচ্ছে কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির যৌথ উদ্যোগে দেশে কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দেশে ওষুধ গবেষণা, নতুন অণু (মলিকিউল) উদ্ভাবন এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ পরিকল্পনায় একটি কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব (Central Synthetic Laboratory) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই ল্যাব চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ওষুধ শিল্পের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে। একই সঙ্গে গবেষণার ব্যয় কমবে এবং উন্নতমানের গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথকভাবে গবেষণাগার গড়ে তোলা ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক গবেষণা সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ সীমিত থাকে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানের একটি কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণা ও পরীক্ষার সুযোগ পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ধাপগুলোর একটি হলো রাসায়নিক যৌগ বা নতুন মলিকিউল তৈরি এবং তার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কেন্দ্রীয়ভাবে এই সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে একই অবকাঠামো ব্যবহার করে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারবে। এতে গবেষণার পুনরাবৃত্ত ব্যয় কমবে এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ল্যাবটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য নয়; প্রয়োজনে সরকারি গবেষণা সংস্থা, বিশেষায়িত গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের ওষুধ শিল্পের গবেষণা কার্যক্রমেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। গবেষণার ফল দ্রুত শিল্পে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হলে দেশীয় ওষুধ শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে এবং বিশ্বের বহু দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। তবে উচ্চমূল্যের গবেষণা, নতুন ওষুধের কাঁচামাল উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের বিনিয়োগ ও গবেষণা অবকাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় সিনথেটিক ল্যাব সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকদের ভাষ্য, উন্নত গবেষণা অবকাঠামো গড়ে উঠলে দেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশের গবেষণাগারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণার ফল শিল্পে দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব হলে নতুন প্রযুক্তি ও ওষুধ উদ্ভাবনের পথও সহজ হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু আধুনিক ল্যাব স্থাপন করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। এর পাশাপাশি দক্ষ গবেষক তৈরি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের ওষুধ গবেষণা ও উদ্ভাবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন