মহালছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালি যুবকদের সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে আহত ১ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী

reporter
শওকত হোসেন হৃদয়
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
মহালছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালি যুবকদের সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে আহত ১ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী

মহালছড়ির মগপাড়ায় সংঘর্ষের পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় পাহাড়ি ও বাঙালি যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক তরুণ ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার মগপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও সেনাবাহিনী ও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মগপাড়া এলাকায় কয়েকজন যুবকের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় রাশেদুল ইসলাম (২৫) তাঁর কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে ঘটনাস্থল দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতি এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে কেজাই মারমা (২০) নামে এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাশেদুল ইসলামের পিঠে একাধিক আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত রাশেদুল ইসলাম উপজেলার চৌংড়াছড়ি গ্রামের মো. শাহজামালের ছেলে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত কেজাই মারমাও একই গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি মংসিলা মারমার ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্তের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা জোরদার করে। পরে উভয় পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তবে ঘটনার কারণ ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমানে মহালছড়ি এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।।

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন