৯০ বছর বয়সে মারা গেলেন নেইবার্স অভিনেতা টেরেন্স ডোনোভান

বিনোদন প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
৯০ বছর বয়সে মারা গেলেন নেইবার্স অভিনেতা টেরেন্স ডোনোভান

‘নেইবার্স’ ও ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’-এর পরিচিত মুখ টেরেন্স ডোনোভান আর নেই।

ব্রিটিশ-অস্ট্রেলীয় অভিনয়জগতের পরিচিত মুখ এবং জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘নেইবার্স’ (Neighbours) ও ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ (Home and Away)-এর অভিনেতা টেরেন্স ডোনোভান আর নেই। ৯০ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ছয় দশকের অভিনয়জীবনে তিনি অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও মঞ্চনাটকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে ভক্ত, সহকর্মী এবং বিনোদন অঙ্গনের মানুষ শোক প্রকাশ করছেন।

লন্ডনে জন্ম নেওয়া টেরেন্স ডোনোভান কৈশোরে পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। অভিনয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে তিনি সংগীতশিল্পী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থেকে ছোট পর্দায় কাজ শুরু করেন এবং ১৯৬০-এর দশকের শুরুতেই টেলিভিশন নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতাদের একজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে প্রচারিত জনপ্রিয় পুলিশভিত্তিক ধারাবাহিক ‘ডিভিশন ৪’ (Division 4)-এ ডিটেকটিভ মিক পিটার্স চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন টেরেন্স ডোনোভান। এরপর ‘কপ শপ’ (Cop Shop) ধারাবাহিকে ডিটেকটিভ সিনিয়র সার্জেন্ট ভিক ক্যামেরন চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের কাছে আরও জনপ্রিয়তা এনে দেয়। দৃঢ় ব্যক্তিত্ব, সংযত অভিনয় এবং চরিত্রের গভীরতা ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার কারণে তিনি দ্রুতই নির্মাতাদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

১৯৯০-এর দশকে আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘নেইবার্স’-এ ডাগ উইলিস চরিত্রে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও পরিচিতি পান। মজার বিষয় হলো, তার ছেলে জেসন ডোনোভান, যিনি নিজেও একজন জনপ্রিয় অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী, ‘নেইবার্স’ থেকে বিদায় নেওয়ার কিছুদিন পরই টেরেন্স ওই ধারাবাহিকে যোগ দেন। এই ঘটনাটি সে সময় অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন অঙ্গনে বেশ আলোচিত হয়েছিল।

শুধু ‘নেইবার্স’ নয়, জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’-তেও অ্যাল সিম্পসন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন তিনি। পরিবারের প্রবীণ সদস্য কিংবা দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার মতো চরিত্রগুলোতে তার অভিনয় ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক ও বিশ্বাসযোগ্য। ফলে একাধিক প্রজন্মের দর্শক তাকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

টেলিভিশনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও ছিল তার সফল উপস্থিতি। ‘দ্য ম্যান ফ্রম স্নোই রিভার’ এবং ‘ব্রেকার মোরান্ট’-এর মতো আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের বহুমাত্রিক অভিনয় প্রতিভার পরিচয় দেন। মঞ্চনাটকেও সমান দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়ের প্রতিটি মাধ্যমে চরিত্রের গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা ছিল তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা তাকে সহকর্মীদের কাছেও সম্মানিত করে তুলেছিল।

প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে টেরেন্স ডোনোভান কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না; তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন শিল্পের বিকাশের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। সাদা-কালো টেলিভিশনের যুগ থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজিটাল সম্প্রচারের সময় পর্যন্ত তিনি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে দর্শকের রুচি, গল্প বলার ধরন এবং বিনোদন মাধ্যমের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার বিরল সক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি।

তার অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরিত্রকে বাস্তবসম্মত করে তোলার ক্ষমতা। তিনি কখনো অতিরঞ্জিত অভিনয়ে বিশ্বাস করতেন না; বরং সংলাপ, অভিব্যক্তি এবং শরীরী ভাষার মাধ্যমে চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতেন। এ কারণেই পুলিশ কর্মকর্তা, পরিবারের অভিভাবক কিংবা অভিজ্ঞ প্রবীণের মতো চরিত্রগুলোতে তিনি ছিলেন সমান স্বচ্ছন্দ।

টেরেন্স ডোনোভানের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়া এবং আন্তর্জাতিক টেলিভিশন অঙ্গনের জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সহকর্মী, ভক্ত এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্মৃতি তুলে ধরে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন, তার অভিনীত চরিত্রগুলো আগামী দিনেও দর্শকদের মনে অমলিন হয়ে থাকবে।

বিনোদন জগতে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকা খুব সহজ নয়। কিন্তু টেরেন্স ডোনোভান নিজের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে সেই কঠিন পথ সফলভাবে অতিক্রম করেছেন। তাই তার মৃত্যুতে শুধু একজন অভিনেতার বিদায় নয়, অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটল।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন