প্রধানমন্ত্রী সৈনিকদের সঙ্গে খেলেন খাবার ও পান করলেন চা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী সৈনিকদের সঙ্গে খেলেন খাবার ও পান করলেন চা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করছেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনের সময় তিনি শুধু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, তাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং একই সঙ্গে সৈনিকদের সঙ্গে বসে খাবার গ্রহণ ও চা পান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৮ বীর ইউনিটের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে তিনি প্রশিক্ষণ এলাকার বিভিন্ন অংশ পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন এবং চলমান সামরিক মহড়ার বিভিন্ন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী প্রশিক্ষণ এলাকার ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন স্থাপনা ও কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কমান্ডিং অফিসার (সিও) তাকে চলমান প্রশিক্ষণ, কৌশলগত প্রস্তুতি, অপারেশনাল সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা (ভারবাল অর্ডার) সরাসরি শোনেন। পরে সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি রেইড মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন। মহড়ায় বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের অনুকরণে পরিচালিত বিভিন্ন কৌশল, অভিযান পরিচালনার ধাপ এবং সমন্বিত সামরিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো তার সামনে উপস্থাপন করা হয়।

প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল প্রয়োগ, বিভিন্ন ধরনের সমরাস্ত্র ব্যবহারের কৌশল এবং বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিচালিত প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে প্রতিটি অনুশীলনের উদ্দেশ্য এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী একটি সেনা বাঙ্কারেও প্রবেশ করেন। সেখানে মহড়ায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য নেন। সৈনিকদের সঙ্গে এই অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় তিনি তাদের মনোবল, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন।

সফরের অন্যতম আলোচিত অংশ ছিল সেনাসদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে খাবার গ্রহণ। মহড়ায় অংশ নেওয়া সদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা একই খাবার তাদের সঙ্গে বসে খান তিনি। পরে সেনাসদস্যদের সঙ্গে চা পান করেন এবং কিছু সময় অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের সঙ্গে কাটান। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

পরিদর্শন শেষে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রাখে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে জাতীয় সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর পেশাদার ভূমিকা দেশের মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করেছে।

তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও দক্ষ সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি বাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য এবং আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের এ ধরনের মাঠপর্যায়ের সফর সেনাসদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রতি সরকারের গুরুত্বের প্রতিফলন। এতে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পেশাগত অনুপ্রেরণাও আরও বৃদ্ধি পায়।

প্রশিক্ষণ মহড়ায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, গ্রীষ্মকালীন এই অনুশীলনের মাধ্যমে বিভিন্ন বাস্তবমুখী যুদ্ধ পরিস্থিতি, সমন্বিত অভিযান পরিচালনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আধুনিক রণকৌশল প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত এই ধরনের প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অপারেশনাল দক্ষতা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সূত্র:

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন