প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দিলেই মিলবে ১ হাজার টাকা কর ছাড়

বাণিজ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দিলেই মিলবে ১ হাজার টাকা কর ছাড়

প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দাখিলকারীদের জন্য ন্যূনতম কর ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে নতুন করদাতারা ন্যূনতম করে বিশেষ ছাড় পাবেন। নতুন অর্থবছরের জন্য এ সুবিধা বহাল রেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর ফলে যারা এবার প্রথমবারের মতো করদাতা হিসেবে রিটার্ন জমা দেবেন, তারা ন্যূনতম কর হিসেবে আগের তুলনায় কম অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাবেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তিদের ন্যূনতম কর ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় বছর থেকে একই করদাতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম করের পরিমাণ হবে ৫ হাজার টাকা। নতুন করদাতাদের কর ব্যবস্থায় উৎসাহিত করতেই এই বিশেষ সুবিধা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

কর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, অনেক ব্যক্তি প্রথমবার রিটার্ন দাখিল করতে গিয়ে ন্যূনতম কর নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। নতুন এই সুবিধার কারণে আরও বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় কর ব্যবস্থায় যুক্ত হতে উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে দেশের করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন)ধারী রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে বছরে মাত্র ৪০ থেকে ৪২ লাখ ব্যক্তি নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দেন। এনবিআর দীর্ঘদিন ধরেই রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও ডিজিটাল সেবা চালু করছে।

নতুন অর্থবছরে কর ব্যবস্থায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বার্ষিক করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি। আগে যেখানে একজন সাধারণ ব্যক্তির করমুক্ত আয়ের সীমা ছিল ৩ লাখ টাকা, সেখানে নতুন অর্থবছর থেকে তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। ফলে যাদের বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকার মধ্যে থাকবে, তাদের আয়কর দিতে হবে না।

করমুক্ত সীমার পর আয়ের ওপর ধাপে ধাপে কর আরোপ করা হবে। নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ৪ লাখ টাকা করমুক্ত থাকবে। এরপরের ১ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, এরপরের ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে।

কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক ব্যক্তি সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারীদের জন্য ন্যূনতম কর কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করদাতা তৈরিতে সহায়ক হবে।

সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করছেন, বর্তমানে এনবিআর অনলাইন রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা সহজ করায় আগের তুলনায় ঘরে বসেই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে করদাতাদের ভোগান্তি কমেছে এবং রিটার্ন দাখিলের হারও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

এনবিআর নিয়মিতভাবে করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানিয়ে আসছে। সময়মতো রিটার্ন দাখিল করলে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক সেবা গ্রহণেও সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি কর আইনের বিধান অনুযায়ী জরিমানা বা অতিরিক্ত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।

কর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যারা এবার প্রথমবারের মতো আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন, তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করবেন। এতে একদিকে যেমন ন্যূনতম করে বিশেষ ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে একজন নিয়মিত করদাতা হিসেবে বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক সেবা গ্রহণও সহজ হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন