উপায় অ্যাপে ঘরে বসেই ডিপিএস খুলবেন যেভাবে, জেনে নিন ধাপে ধাপে
উপায় অ্যাপে অনলাইনে ইসলামিক ডিপিএস খোলার ধাপ
দেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি দ্রুত বাড়ছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শুধু টাকা পাঠানো বা বিল পরিশোধই নয়, এখন বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয় সুবিধাও যুক্ত হচ্ছে। সম্প্রতি বিকাশে অনলাইনে ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) চালুর পর অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের সেবা চালু করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন উপায় (Upay) অ্যাপ ব্যবহারকারীরাও ঘরে বসেই কয়েক মিনিটের মধ্যে অনলাইনে ডিপিএস খুলতে পারছেন।
আগে ডিপিএস খুলতে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ফরম পূরণ, কাগজপত্র জমা এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হতো। কিন্তু ডিজিটাল সেবার প্রসারের ফলে এখন স্মার্টফোনে থাকা উপায় অ্যাপ থেকেই এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে সময় যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি গ্রাহকদের ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষাও করতে হচ্ছে না।
উপায় অ্যাপের ডিপিএস সেবাটি মূলত নিয়মিত ছোট ছোট অঙ্কের অর্থ জমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্দিষ্ট সঞ্চয় গড়ে তোলার সুযোগ দেয়। মাসিক নির্ধারিত কিস্তি জমা দিয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে গ্রাহক একটি বড় অঙ্কের অর্থ পেতে পারেন। ফলে চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী কিংবা নিয়মিত আয় করেন—এমন অনেকের জন্য এটি একটি কার্যকর সঞ্চয় ব্যবস্থা হতে পারে।
উপায় অ্যাপে ডিপিএস খুলতে প্রথমে মোবাইল ফোনে সর্বশেষ সংস্করণের উপায় অ্যাপ ইনস্টল করে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। লগইন করার পর হোমপেজে থাকা ‘সঞ্চয়’ অপশনে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে গেলে নতুন ডিপিএস খোলার অপশন দেখা যাবে।এরপর ‘নতুন ডিপিএস খুলুন’ অপশনে ট্যাপ করলে ডিপিএস সংক্রান্ত পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। সেখানে প্রথমে ডিপিএসের ধরন নির্বাচন করতে হবে। বর্তমানে উপায় অ্যাপে ‘ইসলামিক ডিপিএস’ সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। ব্যবহারকারীকে সেই অপশন নির্বাচন করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
এরপর মাসে কত টাকা জমা দিতে চান, সেই পরিমাণ নির্বাচন করতে হবে। গ্রাহক নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারিত অপশন থেকে মাসিক কিস্তির পরিমাণ বেছে নিতে পারবেন। এরপর ডিপিএসের মেয়াদ নির্বাচন করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে ৪ বছরের মেয়াদ নির্বাচন করা যেতে পারে। উপায় অ্যাপে বিভিন্ন মেয়াদের ডিপিএস সুবিধা ধাপে ধাপে যুক্ত হতে পারে, তাই আবেদন করার সময় অ্যাপে প্রদর্শিত অপশনগুলো থেকে নিজের জন্য উপযুক্ত মেয়াদ নির্বাচন করা উচিত।
মাসিক জমার পরিমাণ এবং মেয়াদ নির্বাচন করার পর ‘এগিয়ে যান‘ বাটনে চাপ দিতে হবে। এরপর পরবর্তী ধাপে গ্রাহকের দেওয়া তথ্য যাচাই করে শর্তাবলীতে সম্মতি দিতে হবে। সব তথ্য সঠিক থাকলে নিজের উপায় অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর দিয়ে আবেদন নিশ্চিত করতে হবে। সফলভাবে আবেদন সম্পন্ন হলে ডিপিএস অ্যাকাউন্ট চালু হওয়ার বিষয়টি অ্যাপে দেখানো হবে এবং পরবর্তী মাস থেকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কিস্তি জমা দেওয়া যাবে।
ডিপিএস চালুর আগে গ্রাহকদের কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। প্রথমত, উপায় অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই সক্রিয় ও সম্পূর্ণভাবে নিবন্ধিত থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, মাসিক কিস্তি জমা দেওয়ার সময় অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কিস্তি পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত চার্জ বা অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে ডিপিএস একটি কার্যকর মাধ্যম। মাসে অল্প অল্প করে অর্থ জমা দিলে ভবিষ্যতে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে একটি বড় তহবিল তৈরি করা সম্ভব হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ডিপিএস চালু হওয়ায় এখন এই সুবিধা দেশের আরও বেশি মানুষের কাছে সহজলভ্য হচ্ছে।
ডিজিটাল সঞ্চয়সেবার বিস্তারের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং গ্রাহকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার সুযোগও তৈরি করছে। এতে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা অনেক মানুষও সহজে আনুষ্ঠানিক সঞ্চয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন।
প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার এই অগ্রযাত্রায় উপায় অ্যাপের ডিপিএস সুবিধা গ্রাহকদের জন্য নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। যারা নিয়মিত সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করছেন, তারা এখন ঘরে বসেই কয়েক মিনিটের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহার করে ডিপিএস চালু করতে পারবেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ডিজিটাল সঞ্চয়সেবা আরও বিস্তৃত হলে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সঞ্চয় সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
